নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

আপডেট : ২২ জুন ২০২৩, ১২:৩৮ এএম

গর্ভের সন্তান নষ্ট, যৌতুকের দাবি, কুপিয়ে জখমের অভিযোগে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্ত্রী। গতকাল বুধবার সকাল ১১টার দিকে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

গৃহবধূ মোসা. হ্যাপি আক্তার (২৯) বরিশাল নগরীর পশ্চিম কাউনিয়া সোবাহান মিয়ার পুল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মো. আবুল খায়েরের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায়।

লিখিত বক্তব্যে হ্যাপি বলেন, ২০১৮ সালের শেষ দিকে আবুল খায়েরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এ সময় আবুল নিজেকে এসআই বলে পরিচয় দেন। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হলে পরিবার সেই সম্পর্ক মেনে নিতে চায়নি। একপর্যায়ে আবুল তার গ্রাম হোগলাকান্দিতে নিয়ে যায় তাকে। ২০২১ সালের ২০ নভেম্বর গ্রামের একটি কাজি অফিসে ২ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে তাদের বিয়ে হয়। এরপর তিনি জানতে পারেন আবুল কনস্টেবল এবং অন্য নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই তর্কবিতর্ক হতো। হঠাৎ আবুল তাকে জানান, কনস্টেবল থেকে এএসআই পদে পদোন্নতি নিতে হলে তার ৫ লাখ টাকা লাগবে। তিনি (হ্যাপি) বাবার বাড়ি থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা এনে দেন।

হ্যাপি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে আবুল আবার তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। এই টাকা না দেওয়ায় মারধর করা হয় তাকে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময় তাকে মারধরে জ্ঞান হারালে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জ্ঞান ফিরলে জানতে পারেন তার গর্ভে থাকা ৩ মাস ১৯ দিনের সন্তান আর নেই।

এদিকে চলতি বছর ৫ মার্চ স্বামী তাকে তালাক দিয়েছে জানিয়ে তালাকের কাগজ ছাড়াই বাসা থেকে বের করে দেন শাশুড়ি। বাবার বাড়ি চলে যাওয়ার পর হঠাৎ মীমাংসার কথা বলে আবুল তাকে ঢাকার একাধিক স্থানে নিয়ে নির্যাতন করার পাশাপাশি হত্যাচেষ্টা চালায়।

এই ঘটনায় ৯ মার্চ পুলিশের আইজিপিসহ একাধিক কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ২০ মার্চ বরিশাল আমলি আদালতে যৌতুক মামলা করেন। এর মধ্যে আবুলকে ঢাকা থেকে মাদারীপুর ডাসার থানায় বদলি করা হয়।

২৮ মে মাদারীপুরের এএসপি অফিস থেকে বরিশাল ফেরার পথে আবুলসহ তিনজন মোটরসাইকেলে এসে তাকে (হ্যাপিকে) কুপিয়ে জখম করে। তিনি ৩১ মে বরিশাল আদালতে আরও একটি মামলা করেন। এ বিষয়ে জানতে আবুল খায়েরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত