ডেঙ্গু জ্বরের বিপদ চিহ্ন

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৩, ০২:২৪ এএম

এ বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ডেঙ্গুর আক্রমণ শুরু হয়েছে। ডেঙ্গু এডিস নামক মশাবাহিত একটি ভাইরাসজনিত রোগ।

তীব্র ডেঙ্গু

জ¦র চলে যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় আসল বিপর্যয়। এটাকে বলা হয় ক্রিটিকাল দশা বা সংকটপূর্ণ সময়। এ পর্যায়ে হতে পারে ডেঙ্গুজনিত রক্তক্ষরণ এবং ডেঙ্গু শক সিনড্রোম। এ ছাড়া ডেঙ্গুতে কিছু বিরল লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। বিরলদৃষ্ট এসব লক্ষণ ভয়ানক। বেশির ভাগ রোগী ডেঙ্গুতে সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। তবে স্বল্পসংখ্যক রোগী কখনো শিকার হতে পারেন তীব্র ডেঙ্গুতে, যা ভয়ানক পরিণতি দেখে আনতে পারে।

ডেঙ্গু জ্বরে করণীয়

ডেঙ্গু হলে রোগীকে সম্পূর্ণ শারীরিক ও মানসিক বিশ্রামে রাখতে হবে। জ¦র কমানোর জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন। ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ চারবার প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দেওয়া যেতে পারে।

বারবার গা মোছাতে হবে ফ্যানের নিচে রেখে। কপালে জলপট্টি দিতে হবে। পর্যাপ্ত পানীয় পান করতে হবে। এ ছাড়া ডাবের পানি, খাবার স্যালাইন, স্যুপ, দুধ, শরবত, ফলের রস ইত্যাদি সেবন করতে হবে। সহজপাচ্য খাবার এ সময় রোগীর জন্য ভালো। ব্যথা-বেদনানাশক বড়ি কিংবা এসপিরিন জাতীয় ওষুধ সেবন করা যাবে না। এতে রক্তক্ষরণজনিত জটিলতা বৃদ্ধি পেতে পারে। অনেক শিশুর তাপমাত্রা বেড়ে গেলে খিঁচুনি দেখা দেয়। এমনটি হলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বর চলে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর যদি শরীর আরও বেশি খারাপ হতে থাকে তবে অবশ্যই সতর্ক হোন। রক্ত পরীক্ষা করে অণুচক্রিকা এবং হেমাটোক্রেটের পরিমাণ জেনে নিতে হবে। রক্তের অণুচক্রিকা কমতে থাকলে দ্রুত হাসপাতালে চলে আসতে হবে। অণুচক্রিকা দশ হাজারের নিচে নেমে গেলে কিংবা রক্তক্ষরণ শুরু হলে রক্ত প্রদান করার প্রয়োজন হতে পারে। রক্তের প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকা বৃদ্ধির জন্য পেঁপে, পেঁপে পাতার রস, দুধ, ডালিম ইত্যাদি গ্রহণ করা যেতে পারে। পেঁপে পাতার রস প্লাটিলেট বৃদ্ধির জন্য কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

বিপদ চিহ্ন

প্রতিদিন রক্ত পরীক্ষা করে অণুচক্রিকার পরিমাণ জানতে হবে। এই সংখ্যা ৫০ হাজারের নিচে নেমে গেলে দিনে অন্তত দুবার এই পরীক্ষা করা দরকার। ডেঙ্গুর বিপদ চিহ্নগুলো অবশ্যই নজরে রাখতে হবে।

তীব্রমাত্রায় পেটে ব্যথা, ২৪ ঘণ্টায় তিনবারের বেশি বমি, দাঁতের গোড়া অথবা নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ। বমি কিংবা পায়খানার সঙ্গে রক্তক্ষরণ। শ্বাসকষ্ট, প্রচন্ড দুর্বলতা, খিটখিটে মেজাজ, অস্থিরতা, ছটফটানি, হঠাৎ করে আচরণগত পরিবর্তন, তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নিচে নেমে যাওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া অথবা না হওয়া, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, পেটে কিংবা ফুসফুসে পানি আসা, লিভার বড় হয়ে যাওয়া, লিভারের এনজাইমের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাওয়া। উপরোক্ত লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হবে। ক্ষেত্রবিশেষে এমন কি নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের (আইসিইউ) দ্বারস্থ হতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত