মসজিদে বাইআত
নবুয়তের দ্বাদশ বছরে মদিনার একদল সাহাবি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাতে বাইআত (আনুগত্যের শপথ) গ্রহণ করেন। তারা ছিলেন আউস ও খাজরাজের গোত্রের লোক। পরের বছর একই স্থানে ৭৩ জন পুরুষ ও ২ জন নারীর একটি বড় দল বাইআত গ্রহণ করেন। তারা নবীজি (সা.)-কে মদিনায় হিজরতের অনুরোধ করেন।
ইসলামের ইতিহাসে যা আকাবার শপথ নামে বিখ্যাত। এর তিন মাস পর মহানবী (সা.) হিজরত করেন। ১৪৪ হিজরি মোতাবেক ৭৬১ খ্রিস্টব্দে খলিফা আবু জাফর মনসুর আনসার সাহাবিদের শপথ গ্রহণের স্থানে মসজিদ নির্মাণ করেন। পরবর্তী সময়ে মসজিদটি একাধিকবার সংস্কার করা হয়েছে।
মসজিদের বর্তমান কাঠামো তুর্কি আমলে নির্মিত। মসজিদে বাইআত মিনায় জামারাতের উত্তরে এবং জামরাতুল কুবরা বা বড় পাথর থেকে তিনশ মিটার দূরে অবস্থিত। জামারাতের তৃতীয় তলায় ওঠার সময় উত্তর দিকে সিঁড়ি ব্যবহার করলে বামে তাকালে মসজিদটি দেখা যায়।
মসজিদে দিরার
মদিনার একদল মুনাফিক ইসলাম ও মুসলমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। তারা তাদের ঘৃণ্য কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে কুবা মসজিদের সন্নিকটেই একটি মসজিদ নির্মাণ করে। যেন সেখানে তারা একত্র হতে এবং মুসলমানদের প্রতারিত করতে পারে। কিন্তু আল্লাহ তাদের ষড়যন্ত্র প্রকাশ করে দেন।
ফলে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) সেই মসজিদ ধ্বংস করার নির্দেশ দেন। ইসলামের ইতিহাসে যা ‘মসজিদে দিরার’ নামে পরিচিত। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং যারা মসজিদ নির্মাণ করেছে ক্ষতিসাধন, কুফরি ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ইতিপূর্বে আল্লাহ ও তার রাসুলের বিরুদ্ধে যে ব্যক্তি সংগ্রাম করেছে তার গোপন ঘাঁটিস্বরূপ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে, তারা অবশ্যই শপথ করবে, আমরা সদুদ্দেশ্যে তা করেছি; আল্লাহ সাক্ষী তারা মিথ্যাবাদী। তুমি কখনো তাদের সঙ্গে দাঁড়াবে না।’ সুরা তাওবা : ১০৭-১০৮
শিআবে আবি তালিব
শিআবে আবি তালিব হলো একটা ঘাঁটি। যার আশপাশেই ছিল হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর খান্দান বনু হাশিমের ঘরবাড়ি। এই ঘাঁটির পাশেই হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। শিআবে আবি তালিবকে শিআবে বনু হাশিম ও শিআবে আলীও বলা হয়।
মক্কার মুশরিকরা নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে বনু মুত্তালিব ও বনু হাশিমকে শিআবে আবি তালিবে অবরুদ্ধ করেছিল। তারা বায়তুল্লাহ শরিফের গায়ে বয়কটনামা ঝুলিয়ে দেয়। তিন বছর পর উইপোকা বয়কটনামা খেয়ে ফেলে এবং অবরুদ্ধ জীবনের সমাপ্তি ঘটে।
শিআবে আবি তালিব এলাকাটি জাবালে আবি কুবাইস ও জাবালে খানাদিমের পাশ দিয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে বাতহায়ে মক্কা পর্যন্ত বিস্তৃত। আর মারওয়া পাহাড় থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে তিনশ মিটার দূর থেকে বাতহায়ে মক্কা এলাকার শুরু।
