জেসমিন নিপার ‘বাণিজ্যে’ বিতর্কিত যুব মহিলা লীগ

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৩, ০২:০৪ এএম

কমিটি বাণিজ্যের কারণে ভাবমূর্তির সংকটে পড়েছে যুব মহিলা লীগ। একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে সংগঠনটি পড়েছে সমালোচনার মুখে। সংগঠনটির  নেত্রীদের অনৈতিক কর্মকান্ডে বারবার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে আওয়ামী লীগকে। এতে করে সরকার ও দলের ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন হচ্ছে। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড বারবার সতর্ক করার পরও দায়িত্বশীলদের উদাসীনতার কমতি নেই। নির্বাচনী বছরে সহযোগী সংগঠনের বিতর্কিত কর্মকান্ড ভোটের মাঠে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

সর্বশেষ ঢাকা জেলা যুব মহিলা লীগের নেত্রী মেহেনাজ তাবাচ্ছুম মিশুর অনৈতিক কাজে ফের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে আওয়ামী লীগ। এর আগে যেমনটা পড়েছিল পাপিয়া কান্ডে। সাভারে কিশোরীকে বিবস্ত্র করে ছবি তুলে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার চেষ্টার তথ্য ফাঁস হওয়ার পরপরই সর্বত্রই সমালোচনা শুরু হয়। সমালোচনার মুখে মেহেনাজ তাবাচ্ছুম মিশুকে সাময়িক বহিষ্কার করে যুব মহিলা লীগ।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সাভারে ঢাকা জেলা যুব মহিলা লীগের বিতর্কিত কমিটির নেপথ্যে অর্থ বাণিজ্য। ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে ঢাকা জেলা যুব মহিলা লীগের কমিটি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। টাকার বিনিময়ে বিতর্কিত এই কমিটি গঠনে মূল ভূমিকা পালন করেছেন যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জেসমিন আক্তার নিপা। কমিটির গঠনের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের একজন ছিলেন তিনি। তার সুপারিশপ্রাপ্তরাই ঢাকা জেলা যুব মহিলা লীগের বিভিন্ন পদে আসেন। ঢাকা জেলা যুব মহিলা লীগের উত্তর-দক্ষিণ জেসমিন আক্তার নিপার অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

 জেসমিন আক্তার নিপা ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি থাকাকালে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল। অভিযোগের কারণে মাত্র ছয় মাসের মাথায় ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব থেকে তাকে সরিয়ে দিতে কমিটি স্থগিত করা হয়। ২০১৭ সালে মহিলা যুবলীগে নিজের জায়গা করে নেন জেসমিন আক্তার নিপা। সরাসরি কেন্দ্রীয় কমিটির যুব মহিলা কল্যাণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ পান। তখন তিনি ঢাকা জেলা যুব মহিলা লীগেরও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হন। ২০২২ সালে ১৫ ডিসেম্বর যুব মহিলা লীগের ২য় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর চলতি বছরে ১৬ জুলাই যুব মহিলা লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়।  সেখানে ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ বাগিয়ে নেন তিনি।

ঢাকা জেলা যুব মহিলা লীগের কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে জেসমিন আক্তার নিপা বলেন, আমিসহ আরও কয়েকজন ঢাকা জেলা যুব মহিলা লীগের দায়িত্বে ছিলাম। এখানে আমাদের পছন্দের কোনো প্রার্থী ছিল না। স্থানীয় নেতাদের সুপারিশেই ঢাকা জেলা যুব মহিলা লীগের কমিটি করা হয়েছে। আর ঢাকা জেলা উত্তর যুব মহিলা লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহনাজ তাবাচ্ছুম মিশুকে পদ দিতে সুপারিশ করেছিলেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।

ঢাকা জেলা উত্তর যুব মহিলা লীগের সভাপতি তাসলিমা শেখ লিমাও একজন বিতর্কিত নেত্রী। যিনি জনসাধারণের ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে উঠে এসেছে।

যুব মহিলা লীগের সভাপতি ডেইজী সারোয়ার বলেন, আগস্ট মাস আমাদের শোকের মাস। আমরা এই মাসে শোকের কর্মসূচিগুলো পালন করছি। নির্বাচনী বছরে সহযোগী সংগঠনকে কেউ যাতে বিতর্কিত করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেপ্টেম্বরে আমরা কঠোর অবস্থানে যাব। যারা সংগঠনের নীতিবহির্ভূত কাজে জড়িত থাকবে, তাদের বহিষ্কার করা হবে।

যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক সারমিন সুলতানা লিলি বলেন, ঢাকা জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক তাবাচ্ছুম মিশুর অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার তথ্য  আমাদের কাছে আছে। আমরা তাকে সংগঠন থেকে সাময়িক সময়ের জন্য বহিষ্কার করেছি। তার অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রমাণিত হলে সংগঠন থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে। কেউ সংগঠনের সুনাম নষ্ট করলে যুব মহিলা লীগে তার জায়গা হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত