মাগুরার মহম্মদপুরে নিজ দলীয় প্রতিপক্ষের হামলায় এক ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার নাম আবু তৈয়েব মোল্যা (২৫)। গতকাল বুধবার ঢাকার নিউ লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এর আগে গত ২০ আগস্ট রাত ৮টার দিকে দলীয় প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন তিনি। আবু তৈয়েব মোল্যা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন।
তবে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন উল্লেখ করে তার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। গতকাল বুধবার সকালে শহরের জামরুলতলা দলীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা তৈয়েবের বড় চাচা নুরুল ইসলাম আমাদের জানিয়েছেন রাজাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাওভাঙ্গা গ্রামের রাজা তৈয়েবকে নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসটি ছিল- ‘ছাত্রদলের সিনয়ির সহ সভাপতি করার কারনে রাজাপুর ইউনিয়ন তথা মহম্মদপুর উপজেলা ছাত্রদলের শুনাম ক্ষুণœ হয়েছে।’ ২০ আগস্ট রাত ৮টার দিকে তৈয়েব তার তিনজন সহযোগী সঙ্গে নিয়ে রাজার সঙ্গে দেখা করে স্ট্যাটাসটি মুছে ফেলতে বলেন। এ সময় তাদের মধ্যে বাদানুবাদ হয়। এ ঘটনার পরে তৈয়ব বাড়ি ফেরার পথে নিজ গ্রামের পৌঁছালে দলীয় প্রতিপক্ষরা তৈয়েবকে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ওই রাতেই ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। তৈয়েবের ওপর হামলার ঘটনাটি স্থানীয় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা করেছে বলে দাবি করেন। যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভয়ংকর মিথ্যাচার।
এ বিষয়ে রাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাকিল খান বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে রাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামীমুল হকের ড্রাইভার রাজার দেওয়া একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে। রাজা স্থানীয়ভাবে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক। এই হামলা ও হত্যাকান্ডের ঘটনা স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে ঘটেছে।
মহম্মদপুর থানার ওসি বোরহান উল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে তৈয়েবুরের বাবা মো. আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলায় ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।
