আফগানিস্তানের জাতীয় পার্কে নারীদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে ক্ষমতাসীন তালিবান। এজন্য তারা নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করবে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। নৈতিকতা মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, মধ্য বামিয়ান প্রদেশের ব্যান্ড-ই-আমিরে যাওয়ার সময় নারীরা হিজাব পরার সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করছেন না।
আজ রবিবার (২৭ আগস্ট) আরব নিউজ জানিয়েছে, এক সপ্তাহ আগে নৈতিকতা মন্ত্রী মোহাম্মদ খালিদ হানাফি মধ্য বামিয়ান প্রদেশ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কর্মকর্তা ও ধর্মীয় আলেমদের বলেন- নারীরা হিজাব পরার সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করছেন না। হানাফি সে সময় বলেছিলেন, দর্শনীয় স্থানগুলোতে যাওয়া নারীদের জন্য আবশ্যক নয়।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সহযোগী নারী অধিকার পরিচালক হিদার বার ই-মেইলে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, মেয়ে ও নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অবাধ চলাচল থেকে বঞ্চিত না করে তালিবানরা তাদের কাছ থেকে পার্ক, খেলাধুলা এমনকি প্রকৃতিও কেড়ে নিতে চায়। ধাপে ধাপে দেয়ালগুলো নারীদের জন্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কারণ প্রতিটি বাড়ি কারাগারে পরিণত হয়েছে।
মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী প্রত্যাহারের পর ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের ক্ষমতায় বসে তালিবান। এরপর থেকে তারা আফগান মেয়ে ও নারীদের লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি বিধিনিষেধ আরোপ করে, যার মধ্যে রয়েছে মেয়েদের ষষ্ঠ শ্রেণির পর স্কুলে যাওয়া বন্ধ করা এবং আফগান নারীদের স্থানীয় ও বেসরকারি সংস্থায় কাজ করা নিষিদ্ধ করা। তাদের এই পদক্ষেপগুলো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বিভিন্ন দেশসহ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্যান্ড-ই-আমির বামিয়ানের একটি প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। এটি ২০০৯ সালে দেশের প্রথম জাতীয় পার্কে রূপান্তরিত হয়। প্রতি বছর হাজার হাজার দর্শনার্থী পার্কটি ভ্রমণ করেন।
আরও পড়ুন: গ্রিসে মসজিদের ভগ্নদশা দেখে ব্যথিত ইহুদিরা, সংস্কারের আবেদন
