টানা ভারী বৃষ্টির পর খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসে একটি সড়কে যান চলাচল প্রায় ১০ ঘণ্টা বন্ধ ছিল। গতকাল রবিবার সকাল ৭টার দিকে গুইমারা উপজেলার পঙ্খীমুড়া এলাকায় পাহাড়টির একাংশ ধসে পড়ে। এতে মহালছড়ি উপজেলার সঙ্গে গুইমারার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মাটি অপসারণের পর বিকেল ৫টার দিকে সড়কটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ সড়ক দিয়ে যাত্রীবাহী বড় বাস চলাচল না করলেও সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মালামাল পরিবহনের ছোট ট্রাক নিয়মিত চলাচল করে। সড়কটি খাগড়াছড়িতে আসা পর্যটকদের কাছেও বেশ জনপ্রিয়। সড়কটি থেকে মাটি অপসারণে সকাল থেকে দিনভর সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে গুইমারা উপজেলা পরিষদ ও সিন্ধুকছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও শ্রমিকরা কাজ করেন।
খাগড়াছড়ি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার দীপক কুমার দাশ সাংবাদিকদের জানান, মহালছড়ি-সিন্ধুকছড়ি প্রধান সড়কে পাহাড় ধসে রাস্তা বন্ধ হওয়ার খবর পেয়ে তাদের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাজ করে।
জানা গেছে, আগের দিন শনিবার সারা দিন বৃষ্টির পর গতকাল পাহাড় ধসে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়।
গুইমারা উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সেনাবাহিনী, সড়ক বিভাগ, জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় ধসে পড়া মাটি সরিয়ে বিকেল ৫টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।’
অন্যদিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে গত শনিবার রাত থেকে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। এর ফলে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম-হাটহাজারী মহাসড়কের ইসলামিয়াহাট থেকে নন্দীরহাট পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে করে গতকাল সকাল সাড়ে ৮টা থেকে এ মহাসড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল ছিল এইচএসসি পরীক্ষা। মহাসড়ক ঢলের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কেন্দ্রে যেতে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়। বড় গাড়ি বিশেষ করে বাস-ট্রাক এ মহাসড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও ছোট গাড়ি চলাচল করতে পারেনি। তাই পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা রিকশা বা ভ্যানে মহাসড়ক পার হন। ফতেয়াবাদ সিটি করপোরেশন ডিগ্রি কলেজের পরীক্ষার্থীরা যথাসময়ে কেন্দ্রে পৌঁছতে না পারায় এ কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর পরীক্ষা শুরু করা হয়।
মামুন এলাহী নামে এক অভিভাবক জানান, তার মেয়ে চট্টগ্রাম শহরের একটি কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী। তিনি কোনোরকমে মেয়েকে কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারলেও নিজে বাড়ি ফিরতে পারেননি মহাসড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায়।
অধ্যাপক সৈয়দ শাহাজাহান নামে এক ব্যক্তি জরুরি প্রয়োজনে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন। পথে হাটহাজারী মহাসড়কের ইসলামিয়াহাটে গিয়ে মহাসড়ক গাড়ি চলাচল বন্ধ দেখতে পেয়ে বাড়িতে ফিরে যান বলে জানান।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবিএম মসিউজ্জামান বলেন, ‘প্রবল বর্ষণের ফলে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম-হাটহাজারী মহাসড়কের ইসলামিয়াহাট থেকে নন্দীরহাট এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে করে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।’
ভারী বৃষ্টির ফলে উদালিয়া মনাই ত্রিপুরাপল্লীর তিন পরিবারের ঘর ধসে পড়েছে এবং এ তিন পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানান ইউএনও।
