পাঁচ বছর পর আবারও ওয়ানডেতে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। দুই দলের সবশেষ সেই লড়াইয়ে শেষ হাসি ছিল পাকিস্তানের। তবে সেই ম্যাচের আগ পর্যন্ত পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চার ম্যাচে জয় ছিল টাইগারদের। এর মধ্যে ২০১৮ এশিয়া কাপেও জয় ধরা দিয়েছিল। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি ম্যাচ বাংলাদেশের ক্রিকেটেই চিরন্তন আক্ষেপ হয়ে আছে।
২০১২ এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল টাইগাররা। ঘরের মাঠে সেদিনের ফাইনালে মাত্র ২ রানে হেরেছিল সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিমরা। যে হারের পর কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন সাকিব-মুশফিকরা।
দারুণ পারফরম্যান্সে সেবারের আসর স্মরণীয় করে রেখেছিল বাংলাদেশ। টেস্ট খেলুড়ে চার দল নিয়ে আয়োজিত আসরে বাংলাদেশ লিগ পর্বে ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে অবশ্য লিগ পর্বের ম্যাচে হেরেছিল। তবে ফাইনালে দলটির সঙ্গে দেখা হলে শিরোপার খুব কাছে চলে যায় মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বাধীন দল।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২৩৬ রানের পুঁজি গড়েছিল পাকিস্তান। সরফরাজ আহমেদ সর্বোচ্চ অপরাজিত ৪৬ রান করেছিলেন। মোহাম্মদ হাফিজের ব্যাট থেকে এসেছিল ৮৭ বলে ৪০ রান। বাংলাদেশের পক্ষে দুটি করে উইকেট নিয়েছিলেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, আব্দুর রাজ্জাক ও সাকিব আল হাসান।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তামিম ইকবালের ব্যাটে দারুণ শুরু পায় বাংলাদেশ। মিডল অর্ডারে সাকিব দারুণ ইনিংস খেলেন। তাতেই জয়ের দুয়ারে পৌঁছে গিয়েছিল টাইগাররা। তামিম ৬৮ বলে ৮ চারে ৬০ রান করেন। সাকিব ৭২ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন।
শেষ ৫ ওভারে ৫ উইকেট হাতে রেখে ৪৭ রান প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ছিলেন উইকেটে। দুজনই অবশ্য উইকেটে নতুন ছিলেন। ৪৬তম ওভারের প্রথম বলেই মুশফিক ফিরে যান ব্যক্তিগত ১০ রানে। ৪৭তম ওভারে উমর গুলকে টানা দুটি চার হাঁকিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তুলেন মাশরাফী। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও একটি চার হাঁকান ওই ওভারের প্রথম বলেই।
৪৮তম ওভারে মাশরাফী ফিরে যান। ৯ বলে ১৮ রান করেন তিনি। মাহমুদউল্লাহ শেষ পর্যন্ত উইকেটে থাকলেও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি। শেষ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৯ রান। কিন্তু স্বাগতিকরা আইজাজ চিমার করা ওভারে রাজ্জাকের উইকেট হারিয়ে নিতে পেরেছিল ৬ রান। ১৬ বলে ১৭ রানে অপরাজিত ছিলেন মাহমুদউল্লাহ।
পাকিস্তানের পক্ষে চিমা ৩টি, উমর গুল ও সাইদ আজমল নিয়েছিলেন ২টি করে উইকেট।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ২১ রানে হেরে সেবারের এশিয়া কাপ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে পরের ম্যাচে শচীন টেন্ডুলকারের শততম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিকে ম্লান করে ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় টাইগাররা। তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে বৃষ্টি আইনে হারায় ৫ উইকেটে। দুই ম্যাচেই ম্যাচসেরা ছিলেন সাকিব।
পুরো আসরে ২৩৭ রান ও ৬ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্ট সেরাও হন সাকিব। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালে হারের পর তার কান্নার দৃশ্যটাই ওই আসরের প্রতীকী ছবি হয়ে আছে।
