সহিংসতা নিয়ে আসিয়ানের (অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ ইস্ট এশিয়ান নেশনস) বিবৃতির কড়া সমালোচনা করেছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা। আসিয়ানের বিবৃতির একদিন পর আজ বুধবার (০৬ সেপ্টেম্বর) মিয়ানমার জানিয়েছে, তারা জোটের আসন্ন সভাপতিত্ব গ্রহণ করবে না।
এর আগে মঙ্গলবার জাকার্তায় শীর্ষ সম্মেলনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতারা জান্তাকে সহিংসতা কমাতে এবং বেসামরিকদের ওপর হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। তারা রক্তপাতের জন্য জেনারেলদের সরাসরি দায়ী করেন।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমার চরম অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে যা গণবিক্ষোভ এবং রক্তক্ষয়ী সামরিক দমন-পীড়নের জন্ম দিয়েছে। আসিয়ান মিয়ানমার সঙ্কট নিরসনের জন্য নিষ্ফল প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিয়েছে। জোটটি একটি পাঁচ-দফা শান্তি পরিকল্পনার সঙ্গে সম্মত হয়েছিল। যদিও আয়োজক দেশ ইন্দোনেশিয়া বলেছে, জোটের পরিকল্পনায় কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমারে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আসিয়ানের পর্যালোচনাটি ‘বস্তুগত নয়’ এবং ‘একতরফা’ বলে সমালোচনা করেছে দেশটি। এতে আসিয়ানকে সনদের বিধান এবং মৌলিক নীতি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে।
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি সাংবাদিকদের বলেছেন, আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন মিয়ানমার ২০২৬ সালে আসিয়ানের নির্ধারিত সভাপতিত্ব গ্রহণ করবে না। পরিবর্তে ফিলিপাইন সভাপতিত্ব করবে। কারণ ব্লকটি জান্তার সঙ্গে কীভাবে জড়িত থাকবে তা নিয়ে বিতর্ক চলছে।
১৯৯৭ সালে পূর্ববতী সামরিক জান্তার অধীনে আসিয়ানে যোগ দিয়েছিল মিয়ানমার। ২০১৪ সালে দেশের প্রথম বেসামরিক রাষ্ট্রপ্রধানের অধীনে সংগঠনটি সভাপতিত্ব করেছিল তারা।