’৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকের Yrys-Ordo হলে অনুষ্ঠিত হলো সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) ২৬তম শীর্ষ সম্মেলন। ২৫ বছর পূর্তিতে সাদির জাপারভের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সম্মেলন, যার থিম ছিল ‘টেকসই শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি’, কেবল আঞ্চলিক আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং একমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে নতুন বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার (নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার) রূপরেখা প্রণয়নের মহাযজ্ঞ। এশীয় শীর্ষ নেতাদের এই সমাবেশ এমন সময়ে হলো, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত এবং এশিয়া-প্যাসিফিকে মার্কিন কৌশলগত বেষ্টনী বিশ্ব রাজনীতিকে চরম উত্তেজনার মুখে দাঁড় করিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিশকেক ঘোষণা এবং ‘এসসিও প্লাস’ মডেলের সম্প্রসারণ বৈশ্বিক রাজনীতি, অর্থনীতি এবং বাংলাদেশের মতো সংবেদনশীল রাষ্ট্রের ওপর গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। তবে প্রকাশ্য আনুষ্ঠানিকতার আড়ালে লুকিয়ে আছে পরাশক্তিগুলোর রুদ্ধদ্বার বৈঠক, মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ এবং সংবেদনশীল গোয়েন্দা দরকষাকষি।
বিশকেক সম্মেলনের মূল সুরটি ছিল পশ্চিমা একাধিপত্যের বিকল্প হিসেবে এশীয় শক্তির আত্মপ্রকাশ। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যৌথ নেতৃত্বে এসসিও দেশগুলো স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, বিশ্ব একক কোনো শক্তির ইচ্ছায় চলবে না। বিশকেক ঘোষণায় ডলারের একচেটিয়া আধিপত্য কমানো এবং নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে রাশিয়ার ‘ডি-ডলারাইজেশন’ নীতি এবং চীনের ইউয়ানের আন্তর্জাতিকীকরণ পরিকল্পনা স্পষ্ট হয়েছে। কিন্তু এই রূপান্তরের আড়ালে ‘কারেন্সি লুপহোল’ বা মুদ্রাগত জটিলতা রয়েছে, যা প্রকাশ্য দলিলে নেই। রুদ্ধদ্বার বৈঠকে চীন একটি নতুন গোপন কৌশল প্রস্তাব করেছে, যাকে বলা হচ্ছে ‘ডিজিটাল ইউয়ান ইন্টিগ্রেশন’। বাস্তবে কোনো সদস্যই রুবল বা রিয়ালে বিপুল রিজার্ভ রাখতে আগ্রহী নয়। চীন চাইছে ডলারের বিকল্প হিসেবে ইউরেশিয়া ব্লকের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বেইজিংয়ের ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থা ব্যবহার করুক। এটি সফল হলে পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এককভাবে বেইজিংয়ের হাতে চলে যাবে, যা ভারতের মতো আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা পর্দার আড়ালে তীব্র আপত্তি জানাচ্ছে।
একই সাথে, ইরানের ওপর মার্কিন ও পশ্চিমা দেশগুলোর একতরফা নিষেধাজ্ঞা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এসসিও নেতারা যে সম্মিলিত নিন্দা প্রকাশ করেছেন, তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব মেরুকরণের ইঙ্গিত দেয়। পশ্চিমা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এসসিও দেশগুলো এখন একটি সমান্তরাল বৈশ্বিক আর্থিক ও লজিস্টিক চেইন গড়ে তুলছে, যার প্রমাণ মেলে জলবায়ু, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আঞ্চলিক তথ্য হাব সংক্রান্ত গৃহীত ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ দলিলে। এই জোট সরাসরি কোনো সামরিক ব্লক বা ন্যাটো-বিরোধী সামরিক জোট না হওয়ার দাবি করলেও এর নিরাপত্তা মাত্রাটি অত্যন্ত শক্তিশালী। সম্মেলনে এসসিওর ‘ইউনিয়ন সেন্টার ফর কাউন্টারিং সিকিউরিটি চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড থ্রেটস’ এবং ‘অ্যান্টি-ড্রাগ সেন্টার’ সংক্রান্ত নতুন প্রবিধানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আড়ালের আসল সত্য হলো, প্রকাশ্যে এটাকে সাধারণ নিরাপত্তা সহযোগিতা বলা হলেও, ভেতরে ভেতরে চীন ও রাশিয়া সদস্য দেশগুলোর মধ্যে একটি কমন সাইবার-সার্ভেল্যান্স প্রোটোকল বা ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা চালুর চুক্তি করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো পশ্চিমা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যাতে এই অঞ্চলের দেশগুলোতে কোনো ‘কালার রেভোলিউশন’ বা সরকারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান উসকে দিতে না পারে।
চীন তাদের ফাইভ-জি প্রযুক্তি এবং এআই-চালিত ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম সদস্য দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ সুরক্ষায় দেওয়ার যে প্রস্তাব করেছে, তা আসলে পরোক্ষভাবে এই দেশগুলোর ডেটার ওপর বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি নতুন কূটনৈতিক ফাঁদ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘এসসিও প্লাস’ কাঠামোর সম্প্রসারণ। আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশন এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সাথে এসসিওর সমঝোতা স্মারক সইয়ের মাধ্যমে গ্লোবাল সাউথ বা উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোকে নিজেদের বলয়ে টানার এক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে চীন ও রাশিয়া। এটি স্পষ্টতই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কোয়াড বা অকুসের মতো নতুন সামরিক ও কৌশলগত জোটগুলোর বিপরীতে একটি কাউন্টার-ব্যালেন্স বা ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা। কিন্তু জনসমক্ষে শি জিনপিং এবং ভ্লাদিমির পুতিনকে যতই একাত্ম দেখাক না কেন, পর্দার আড়ালে সেন্ট্রাল এশিয়া বা মধ্য এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে চীন ও রাশিয়ার মধ্যে একটি নীরব মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চলছে। রাশিয়া মধ্য এশিয়াকে তাদের ঐতিহাসিক ‘ব্যাকইয়ার্ড’ বা নিজস্ব আঙিনা মনে করে, যেখানে চীন বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) মাধ্যমে বিপুল বিনিয়োগ করে দেশগুলোকে বেইজিংয়ের ওপর নির্ভরশীল করে তুলছে।
এবারের বিশকেক সম্মেলনে পর্দার আড়ালে একটি গোপন কাজের ভাগাভাগি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে মধ্য এশিয়ার অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকবে চীনের হাতে, আর হার্ডকোর সামরিক ও কৌশলগত নিরাপত্তার নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করবে রাশিয়া। স্বভাবতই, বিশকেকের এই দৃশ্যপট ওয়াশিংটন এবং ব্রাসেলসকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রসমূহ মনে করছে, এসসিও মূলত চীন ও রাশিয়ার কর্তৃত্ববাদী অক্ষকে বৈধতা দেওয়ার একটি মোড়ক। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ইউরোপীয় বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও বেলারুশের মতো কট্টর পশ্চিমা-বিরোধী দেশগুলোকে পূর্ণ সদস্যপদ দিয়ে এসসিও এখন তার আদি অর্থনৈতিক লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে একটি ভূরাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশেষভাবে চিন্তিত রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ব্যর্থ হওয়া নিয়ে, যেহেতু এসসিও ভুক্ত দেশগুলোর সম্মিলিত বাণিজ্য ইতোমধ্যে ৪০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে এবং এই বাণিজ্যের বড় অংশই নিজস্ব মুদ্রায় হচ্ছে।
তবে এই জোটের ভেতরে থাকা অভ্যন্তরীণ ফাটলগুলোও পশ্চিমাদের নজর এড়ায়নি। যেমন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কর্তৃক ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানোর আহ্বান এবং চীন-পাকিস্তানের অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে ভারতের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হওয়ার আপত্তি প্রমাণ করে যে, এই জোটের সবাই সব বিষয়ে একমত নয়। ভারত এখানে ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’ বা কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের কার্ড খেলেছে-তারা এসসিওতে বেইজিংয়ের একাধিপত্য রুখতে প্রয়োজনে ভেটো দেওয়ার গোপন হুমকি দিয়ে রেখেছে, যাতে করে চীন এই জোটকে পুরোপুরি একটি কট্টর মার্কিন-বিরোধী ফ্রন্টে রূপান্তর করতে না পারে।
এই দাবার ছকে বাংলাদেশের অবস্থান জটিল ও সংবেদনশীল। সদস্য না হলেও প্রতিটি সিদ্ধান্তের ঢেউ বঙ্গোপসাগরে আছড়ে পড়ে। প্রথমত, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এক চরম দোলাচলের মুখোমুখি। এসসিও দেশগুলো যখন নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্যের পরিধি বাড়াচ্ছে, তখন বাংলাদেশের মতো ডলার-সংকটে থাকা দেশের জন্য বিকল্প মুদ্রায় বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার যেহেতু আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাই এসসিও বা ব্রিকসের মতো ব্লকের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়লে পশ্চিমা দেশগুলোর অসন্তুষ্টির কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত এবং জিএসপি সুবিধা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। দ্বিতীয়ত, কানেক্টিভিটি বা আঞ্চলিক সংযোগের ক্ষেত্রে চীন-রাশিয়ার পরিকল্পনা বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে সম্ভব নয়। চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ এবং রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডোরের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান। এসসিও সম্মেলনে লজিস্টিকস ও পোর্ট উন্নয়নের যে মহাপরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে, তা বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রবন্দর ও আঞ্চলিক বাণিজ্য হাব হওয়ার স্বপ্নকে ত্বরান্বিত করতে পারে, যদি বাংলাদেশ সুচতুর কূটনীতি বজায় রাখতে পারে।
তবে বড় চাপটি হলো মনস্তাত্ত্বিক ও কূটনৈতিক চাপ। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, চীন ও রাশিয়া যৌথভাবে পর্দার আড়ালে ঢাকাকে এসসিওর ‘ডায়ালগ পার্টনার’ বা ‘অবজারভার স্ট্যাটাস’ নেওয়ার জন্য এক ধরনের মৃদু কিন্তু সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক চাপ দিচ্ছে। রাশিয়ার যুক্তি হলো, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঋণ পরিশোধ এবং ভবিষ্যৎ দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশের এই ইউরেশীয় ব্লকের কাছাকাছি আসা দরকার। অন্যদিকে, ঢাকা যদি এসসিওর দিকে সামান্যতম ঝুঁকে পড়ে, তবে ওয়াশিংটন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা মহল বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্য কোটা সংকোচন এবং মানবাধিকারের কাউন্টার-কার্ড খেলার জন্য ব্যাকস্টেজ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঢাকার ওপর বঙ্গোপসাগরে তাদের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির অধীনে একচেটিয়া প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে চাপ বাড়াচ্ছে। ফলে বাংলাদেশ রেজার-ব্লেডের ওপর দাঁড়িয়ে, একদিকে পশ্চিমা বাজার ধ্বংস, অন্যদিকে জ্বালানি সংকটের গভীর আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিশেষে, বিশকেক সম্মেলন নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যেখানে গ্লোবাল সাউথ আর ওয়াশিংটনের অপেক্ষায় নেই। চীন ও রাশিয়ার যৌথ পরিকল্পনা হলো ২০২৬-২০৩৫ সালের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে এশিয়া ও ইউরেশিয়া অঞ্চলে এমন এক অভেদ্য অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা, যা পশ্চিমা কোনো চাপেই ভাঙবে না। পাকিস্তান যখন আগামী মেয়াদের জন্য এসসিওর সভাপতিত্ব গ্রহণ করছে, তখন দক্ষিণ এশিয়ায় এই ভূরাজনৈতিক হাওয়া আরও বেগবান হবে। এই পরিবর্তিত ও মেরুকৃত বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশের সামনে যেমন রয়েছে নতুন অর্থনৈতিক দিগন্তের উন্মোচন, তেমনি রয়েছে মারাত্মক ভূরাজনৈতিক ফাঁদ। বাংলাদেশ যদি ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’-এই রাষ্ট্রীয় দর্শনকে অক্ষুণ্ণ রেখে, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চে বসিয়ে এই নতুন বৈশ্বিক মেরুকরণকে চরম বিচক্ষণতার সাথে মোকাবিলা করতে পারে, তবেই এই বিশ্ব কাঁপানো সমীকরণের মাঝেও নিজের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে। অন্যথায়, পরাশক্তিদের এই অদৃশ্য রুদ্ধদ্বার টানাটানির মাঝে উন্নয়নশীল দেশগুলোর নীতিগত স্বাধীনতা খড়কুটোর মতো ভেসে যাওয়ার আশঙ্কাই বেশি এবং এই বাস্তবতা আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
লেখক: কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও কলামিস্ট