প্রতিবছর তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে আমরা ফান্ড পেতাম। সেই অর্থায়নে আমরা উৎসবটি সুন্দরভাবে করতাম। কিন্তু গত বছর থেকে সেই ফান্ডটি আমরা পাচ্ছি না। সরকার থেকে এবার তাদের কৃচ্ছ্রসাধনের জন্য নির্দেশ দেওয়ায় সে ফান্ডটিও পাইনি। একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে এবার আমরা কিছু ফান্ড পাওয়ার কারণ উৎসবটি করতে পারছি। তার প্রভাব পড়েছে আমাদের ভেন্যু এবং আয়োজনের ব্যাপ্তির ওপর। অন্যবারের তুলনায় কম চলচ্চিত্র প্রদর্শন করতে পাচ্ছি আমরা। মাত্র দুটি ভেন্যুতে আমাদের এবারের উৎসবটি হচ্ছে। আমরা অর্থনৈতিক সংকটে থাকার কারণে বেশ কিছু নিয়মিত উদ্যোগ নিতে পারিনি। যেমন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আমরা গাড়ি পাঠাতাম। যেন শিক্ষার্থীরা চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে পারে। কিন্তু এবার সেটা করতে পারছি না। তবে আমরা আশা করি, এবারের উৎসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ায় তারা পরিবারের সঙ্গে দেখতে আসবে। তবে কিছু ব্যাপার আমরা অপরিবর্তিত রাখতে পারছি। যেমন, প্রতিবছরের মতো কিন্তু এবারও আমরা কোনো প্রবেশ মূল্য রাখিনি। শিশুরা তাদের অভিভাবকসহ চলচ্চিত্রগুলো উপভোগ করতে পারবে বিনামূল্যে। এই উৎসবটি পরিচালনার ক্ষেত্রে আমরা এখন যে বাধার সম্মুখীন হচ্ছি তা হলো ফান্ড। ফান্ড পেলে উৎসবটি নিয়ে আমরা জেলা পর্যায়ে, বিভাগীয় পর্যায়ে যেতে পারতাম। সিনেমার দর্শক এবং নির্মাতা নির্মাণের ক্ষেত্রে চিলড্রেন ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশ কাজ করছে। এই কাজ এগিয়ে নিতে আমাদের সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আমাদের উৎসবে কিন্তু ওয়ার্কশপ হয়। এবার কিন্তু ওয়ার্কশপ হচ্ছে না। অর্থের অভাবে এভাবে আমরা পিছিয়ে পড়ছি। শিশুদের গড়ে তোলার জন্য সুন্দর আগামীর জন্য আমাদের পাশে থাকতে হবে। নইলে থমকে যাবে আমাদের সব প্রচেষ্টা।
লেখক : উৎসব পরিচালক, ১৬তম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব বাংলাদেশ ২০২৩
