সাফল্যের পর বিতর্কের মুখে মোদি

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১০:৪৫ পিএম

ভারতে জি-২০ সম্মেলন শুরুর আগে লোগোতে পদ্মফুল কেন, এমন প্রশ্ন তুলেছিল ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদির বিরোধীরা। কিন্তু বিশ্বের শিল্পোন্নত ও বিকাশমান অর্থনীতির দেশগুলোর এ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি দেখান ম্যাজিক। তার প্রস্তাবে জি-২০ জোটে এসেছে আফ্রিকান ইউনিয়ন। এ ছাড়া জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সংক্রান্ত রেকর্ড পরিমাণ বিষয়ে ঐকমত্যে গৃহীত হয় ‘দিল্লি ঘোষণা’। যে ঘোষণায় ইউক্রেন বাদে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়াসহ সব দেশ সন্তোষ প্রকাশ করে। কিন্তু সম্মেলন শেষ হতে না হতেই ঘরে-বাইরে বিতর্কের মুখে পড়েছে মোদির সাফল্য। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে না দেওয়ার অভিযোগের পর এবার সম্মেলন ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। বিরোধী দল কংগ্রেসের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি তৈরির জন্য অতিরিক্ত কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে সরকার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশটির সভাপতিত্বে জি-২০ সম্মেলন আয়োজনের জন্য গত ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বাজেটে ৯৯০ কোটি ভারতীয় রুপি বরাদ্দ রাখেন। সরকারি সূত্রের বরাতে আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইনের খবরে বলা হয়, অথচ সম্মেলন উপলক্ষে দিল্লিকে ঢেলে সাজানোর জন্যই ৪,১০০ কোটি রুপি খরচ করেছে সরকার। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, জি-২০ সম্মেলন ঘিরে গোটা দিল্লি মুড়ে দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবিতে। সম্মেলনের অজুহাতে সরকারি অর্থ খরচ করে প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজের প্রচার করছেন বলে অভিযোগ বিরোধীদের। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় সরকার মধ্যবিত্ত থেকে কৃষকদের সমস্যা সমাধানে অর্থের বন্দোবস্ত করে না, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি তৈরিতে কোটি কোটি টাকা খরচ করে। কংগ্রেসের সাংগঠনিক সম্পাদক কে সি বেনুগোপাল অভিযোগ করেন, গত বছর ইন্দোনেশিয়ার বালিতে জি-২০ সম্মেলনের জন্য যে ইন্দোনেশিয়া যে পরিমাণ অর্থ খরচ করেছিল ভারতীয় রুপিতে তার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৬৪ কোটি। মোদি সরকার যা খরচ করেছে, তার দশ ভাগের এক ভাগেরও কম। তিনি বলেন, কভিড মহামারীর পর সব দেশের সরকারই অনুষ্ঠানের খরচে কাটছাঁট করে। কিন্তু মোদি সরকার বাজেটে ৯৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখলেও খরচ করে ফেলেছে ৪,১০০ কোটি রুপি।

এর আগে মোদির বিরুদ্ধে বড় বিতর্কটি তোলার সুযোগ করে দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন। জি-২০ সম্মেলনে ভারতে গিয়ে বিজেপি-মোদি বিরোধী কোনো কথা না বললেও ভিয়েতনামে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটান তিনি। মূলত জি-২০ সম্মেলনে মোদি-বাইডেন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলন না করাকে ভালো চোখে দেখেনি যুক্তরাষ্ট্র। যেকোনো দেশের নেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর হোয়াইট হাউসে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করা যুক্তরাষ্ট্রের রীতি। কিন্তু দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর কোনো রকম প্রশ্নোত্তর পর্বের মুখোমুখি হতে মোদি রাজি হননি। এমনকি প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে আলাদাভাবেও কোনো সংবাদ সম্মেলন করতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু হ্যানয়ে গিয়ে বাইডেন সংবাদ সম্মেলন করে জানান, ভারতের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও নাগরিক সমাজ নিয়ে তাদের ধারণার বিষয়টি আরও একবার তিনি মোদিকে মনে করিয়ে দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যকে রাজনীতির পুঁজি হিসেবে পেয়েছে বিজেপি বিরোধীরা। কংগ্রস নেতা জয়রাম রামেশ তার এক্স (পূর্বে টুইটার) হ্যান্ডেলে লিখেছেন, বাইডেনকে মোদি বলেছিলেন, সংবাদ সম্মেল না করতে। কিন্তু তা কাজে এলো না। ভারতে মোদিকে কী বলেছেন, ভিয়েতনামে গিয়ে সেটাই জানিয়ে দিলেন বাইডেন। মোদি চেষ্টা করেও তার সরকারের সমালোচনা থেকে বাইডেনকে বিরত রাখতে পারলেন না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত