মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের লেখক খ্যাতিমান ভারতীয় সাংবাদিক গীতা মেহতা আর নেই। গত শনিবার রাতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নিজের বাসভবনে বার্ধক্যজনিত রোগে তার মৃত্যু হয়। তিনি ভারতের ওড়িশা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের বড়বোন। গীতা মেহতা ১৯৭০-৭১ সালে আমেরিকান টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এনবিসিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধ সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছিলেন। আর তার সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি তার বহুল প্রশংসিত তথ্যচিত্র ডেডলাইন বাংলাদেশে বর্ণনা করেছেন।
গতকাল এনডিটিভিসহ ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। গীতা মেহতার মৃত্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শোক প্রকাশ করেছেন। এক এক্স (টুইটার) বার্তায় মোদি বলেন, প্রখ্যাত লেখিকা শ্রীমতি গীতা মেহতা জির মৃত্যুতে আমি শোকাহত। তিনি ছিলেন বহুমুখী একজন ব্যক্তিত্ব, লেখালেখির পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতি তার জ্ঞান এবং আবেগের জন্য তিনি পরিচিত। তিনি প্রকৃতি এবং পানি সংরক্ষণের বিষয়েও অনুরাগী ছিলেন।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখিকা গীতা মেহতার মৃত্যুসংবাদে শোকাহত। একজন বিশাল ব্যক্তিত্বের কন্যা, বিজু পট্টনায়েক এবং ওড়িশার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কের বোন ছিলেন তিনি। তিনি একজন বিশিষ্ট লেখক, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার মৃত্যু আমাদের হতাশ করে। আমি নবীন পট্টনায়েক এবং তার সমগ্র পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং পাঠকদের প্রতি আমার সমবেদনা জানাই। তার আত্মা শান্তিতে থাকুক।
গীতা মেহতার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে কারমা কোলা : মার্কেটিং দ্য মিস্টিং ইস্ট, স্নেকস অ্যান্ড ল্যাডার্স, আ রিভার সুত্রা, রাজ ও দ্য ইটারনাল গনেশা। ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতি নিয়ে অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ এসব লেখনীর মাধ্যমেই গীতা মেহতা বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। সাহিত্য ও শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৯ সালে ভারত সরকার গীতা মেহতাকে দেশটির চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’ পদকে ভূষিত করে। তবে গীতা মেহতা সম্মাননা নিতে অস্বীকৃতি জানান। সেই বছরের লোকসভা নির্বাচনে এই পুরস্কার ভুল বার্তা দিতে পারে বলেও সে সময় উল্লেখ করেন তিনি। সে সময় এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ‘ভারত সরকার আমাকে পদ্মশ্রীর জন্য যোগ্য মনে করায় আমি কৃতজ্ঞ। খুব দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, এই সম্মান আমি নিতে পারব না।’
১৯৪৩ সালে দিল্লিতে বিজু পট্টনায়েক এবং জ্ঞান পট্টনায়কের কোলে জন্মগ্রহণ করেন গীতা মেহতা। তিনি ভারতে এবং যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮০ বছর বয়সী গীতা মেহতা এক ছেলে রেখে যান। আর তার প্রকাশক স্বামী সনি মেহতা আগেই মারা গেছেন।
