র্যাব ছদ্মবেশে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ছিনতাইয়ে জড়িয়েছে একটি চক্র। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি ব্যাংকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা জমা দিতে গিয়ে ছিনতাইয়ের শিকার ভুক্তভোগীর মামলার পর চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, তিন মাস আগে কারাগার থেকে বেরিয়ে পুনরায় র্যাব পরিচয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতি ও ছিনতাই করছিল চক্রটি। গেল তিন মাসে চক্রটি ৩০টির বেশি ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে। এভাবে হাতিয়ে নিয়েছে ১০ কোটির বেশি টাকা।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শ্যামলীতে তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) আজিমুল হক এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ইসরাফিল নামে এক ব্যক্তি শ্যামলী ডাচ্-বাংলা ব্যাংক থেকে ৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা তুলে রিং রোড পূবালী ব্যাংকে জমা দিতে আসছিলেন। সেখানে যাওয়ার পথে একটি প্রাইভেট কারে থাকা র্যাবের কটি পরা তিন-চার ব্যক্তি তার গতিরোধ করে। র্যাব সদস্য পরিচয়ে তারা জোরপূর্বক প্রাইভেট কারে তুলে নেয়। পরে ইসরাফিলের চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। একপর্যায়ে তাকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে ব্যাগে থাকা সব টাকা ছিনিয়ে নিয়ে শেরেবাংলা নগর এলাকার একটি স্কুলের পাশে নামিয়ে পালিয়ে যায়।
ডিসি আজিম বলেন, র্যাব পরিচয়ে এমন স্পর্শকাতর ঘটনার রহস্য উদঘাটনে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শ্যামলী এলাকা ও আশপাশের প্রায় ২০০ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে। এ সময় একটি সন্দেহজনক গাড়ির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিশ্বস্ত সোর্সের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হয়।
অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানতে পারে, রাজধানীসহ আশপাশের জেলাগুলোতে সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘদিন প্রাইভেট কার ব্যবহার করে র্যাব পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে টাকা তোলা ব্যক্তিদের গতিরোধ করত। পরে তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে সবকিছু লুট করে পালিয়ে যেত।
পুলিশ বলছে, তারা গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তিনটি, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি, হবিগঞ্জের মাধবপুরে একটিসহ ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় গত তিন মাসে ২৫টি ঘটনার কথা স্বীকার করেছে। বাকিগুলোর ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এসব ঘটনায় সুমন মিয়ার বিরুদ্ধে ১১টি, মাসুদ রানার নামে ৬টি, আশরাফুল ইসলাম আপেলের নামে ১১টি, ইকবাল হোসেন ইসলামের নামে ৩টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
