পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপ দেওয়া সেই রিকশাচালক থানায়

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৩, ০৫:৩৮ এএম

পদ্মা সেতুতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে ওঠার পর তাড়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া সেই চালকের সন্ধান মিলেছে। তার নাম শরিফুল ইসলাম। ঘটনার ৩ মাস ১০ দিনের মাথায় গতকাল রবিবার সকালে পদ্মা সেতু উত্তর থানায় হাজির হয়েছেন তিনি। এরপর ফেলে যাওয়া অটোরিকশাটি তার বলে দাবি করেন।

গত ১৯ জুন রাতে শরীয়তপুরে জাজিরা প্রান্ত হয়ে উল্টোপথে সেতুতে উঠে পড়েন অটোরিকশাচালক শরিফুল। এরপর সেতুর নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে ধাওয়া করেন। পরে সেতুর ২১ নম্বর পিয়ারের কাছে অটোরিকশা রেখে নদীতে ঝাঁপ দেন। কয়েক দিনব্যাপী উদ্ধার অভিযান চালানো হলেও ওই সময় তার সন্ধান মেলেনি। শরিফুলের বাড়ি বাগেরহাটের মোল্লাহাটের উদয়পুর অরুনকান্দি গ্রামে।

পদ্মা সেতু উত্তর থানার ওসি মো. আলমগীর হোসাইন জানান, গতকাল রবিবার সকাল ৯টার দিকে থানায় এসে তার পরিচয় দেন। এ সময় তার সঙ্গে তার শ্বশুর দাউদ মোল্লা ছিলেন। শরিফুল দাবি করে বলেন, ‘ফেলা যাওয়া অটোরিকশাটি আমার। পদ্মা সেতু থেকে গভীর রাতে আমি লাফ দিয়েছিলাম। এখন অটোরিকশাটি নিতে আসছি।’

ওসি বলেন, ‘আমরা সিসিটিভির ফুটেজ দেখছি এবং ঘটনার বিবরণ নিচ্ছি। অটোরিকশাটি শরিফুলের হলে তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’

রিকশাচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ঢাকার হাজারীবাগ দু-তিন বছর অটোরিকশা চালিয়েছি। পরে সিদ্ধান্ত নিই আমার গ্রামের বাড়ি গিয়ে অটোরিকশা চালাব। ওইদিন গভীর রাতে পদ্মা সেতু দিয়ে রিকশা চালিয়ে যাওয়ার সময় কিছু লোক আমাকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে ট্রাকের সঙ্গে আমার রিকশাটির ধাক্কা লেগে পড়ে যাই। পরে ওই লোকগুলো কাছাকাছি এলে আমি ভয়ে পদ্মায় লাফ দিই।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাতভর নদীতে ভেসেছিলাম আমি, নদীতে অনেক ঢেউ ছিল, আমি কোনো কূলকিনারা খুঁজে পাইনি। নিজের মতো করে সাঁতরাচ্ছিলাম। সকালে মাওয়া প্রান্ত থেকে দূরের একটি এলাকায় উঠি। পরে বাসে উঠে বাড়িতে গেলেও পরিবারের কেউ আমার এ ঘটনা বিশ্বাস করেননি। সবাই বলছিলেন রিকশাটি আমি চুরি করে বিক্রি করে দিয়েছি। কিস্তির টাকা দিয়ে রিকশাটি ক্রয় করেছিলাম, পরে জানতে পারি এটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এজন্য পদ্মা সেতু উত্তর থানায় এসেছি।’

শরিফুল ইসলামের সঙ্গে আসা তার শ্বশুর মোহাম্মদ দাউদ মোল্লা বলেন, ‘ঘটনাটি আমাদের কাছে বলার পর বিশ্বাস করতে পারিনি। কারণ, পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়ে জীবিত ফিরে আসা নিয়ে সন্দেহ হয়েছিল। শরিফুলের মানসিকভাবে কিছু সমস্যা ছিল। এ ঘটনার পর অনেক দিন পর্যন্ত সে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ছিল। এখন থানায় এসে দেখলাম তার রিকশাটি থানা প্রাঙ্গণে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।’

এদিকে শরিফুল গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, রিকশার ব্যাটারির গায়ে তার হাতে মার্কার পেন দিয়ে ইংরেজিতে কয়েকটি আদ্যক্ষর লেখা আছে। পরে দীর্ঘদিন জমে থাকা ধুলা সরিয়ে ব্যাটারির গায়ের লেখার সত্যতা পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে গতকাল সন্ধ্যায় ওসি আলমগীর হোসাইন দেশ রূপান্তরকে জানান, শরিফুলের রিকশাটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে মাদারীপুরের শিবচর থানা-পুলিশ। কারণ, ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনায় শিবচর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত