রাজধানীর ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা দ্রুতই স্বয়ংক্রিয় করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনার হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘যানজট নিরসন করতে অটো সিগন্যালে যাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। যানজটে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া রোধ করতে যা যা করা দরকার তাই করা হবে।’ গতকাল সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধে গুরুত্বারোপ করে রাজধানীর পুলিশপ্রধান বলেন, ‘দেশে আদালত, বিচারিক প্রক্রিয়া আছে। যেসব অপরাধী জেল থেকে বের হচ্ছে তাদের কঠোরভাবে মনিটরিং করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধী ছোট হোক বড় হোক, কাউকে ছাড় নয়। অনুমতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো মিছিল-সমাবেশ করতে পারবে।’
হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আসছে নির্বাচনে যাতে কেউ বা কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি করতে না পারে এবং অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধ করতে পুলিশ সদস্যদের যথেষ্ট সাহস ও শক্তি রয়েছে। ৩০৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মেগাসিটি ঢাকা শহরের জনসংখ্যার ঘনত্ব ৭৩ হাজারের বেশি। এ শহরে পুলিশিং বড় চ্যালেঞ্জ ও জটিল প্রক্রিয়া।’
শীর্ষ সন্ত্রাসীরা সম্প্রতি রাজধানীর অপরাধজগৎ অস্থির করে তুলেছে, যার ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ তেজগাঁওয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এসব প্রতিরোধে নতুন কমিশনার হিসেবে তার কী কৌশল তা জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘জামিন একটি বিচারিক প্রক্রিয়া। একজন অপরাধী আদালত থেকে আইন অনুযায়ী জামিন পেতেই পারে। এ ক্ষেত্রে কিন্তু পুলিশের কিছু করার থাকে না। তবে পুলিশ যেটা করতে পারে সেটা হলো, যদি কেউ অপরাধে জড়িয়ে পড়ে কিংবা উদ্যত হয় বা অপরাধ সংঘটিত করে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কঠোরভাবে মনিটরিং করতে সব কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
রাজধানীর যানজট নিরসনে পদক্ষেপ নিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘আমাদের প্রধান সমস্যা ট্রাফিক। আমি কমিশনার হিসেবে যোগদান করার পর প্রথমেই মিটিং করেছি ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে। যেসব এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়, সেসব এলাকা ধরে ধরে আমরা গবেষণা করব। কী সমস্যা সেটি চিহ্নিত করে যানজট নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের বিষয়ে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘রাজধানীতে কোনো সংগঠন অনুমতি ছাড়া মিছিল-মিটিং করতে পারে না। অনুমতি না নিয়ে মিছিল-মিটিং করতে চাইলে কিংবা করলে ডিএমপি অ্যাক্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
আসন্ন নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং চলতি অক্টোবরে জোরদার আন্দোলনের সম্ভাবনাও রয়েছে। এ বিষয়ে ডিএমপির প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন হলো রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি। সেটি যেন সুন্দর-সুষ্ঠুভাবে হয়, জনগণ যেন নির্ভয়ে নিশ্চিন্তে, নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন, ভোট দিতে পারেন, পুলিশ সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতিতে পুলিশের কোনো সমস্যা আছে কি না, জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘একটি দেশ ভিসানীতি ঘোষণা করেছে, এটি তাদের নিজস্ব বিষয়। সেটি নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের চিন্তার কিছু নেই। আমি পুলিশের ভেতর এ ধরনের নীতিতে কোনো দুশ্চিন্তা দেখিনি। এটি ব্যক্তি পর্যায়ের বিষয়। এটি বাহিনী পর্যায়ের কোনো ব্যবস্থা নয়।’
