ভারতের নিউজ পোর্টাল নিউজক্লিক তহবিল নিয়ে তদন্তের জেরে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখকের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল দল।
ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে দিল্লি, নয়ডা এবং গাজিয়াবাদের ৩০টিরও বেশি স্থানে নিউজক্লিক ওয়েবসাইটের সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিক ও কর্মচারীদের বাসভবন লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিযুক্তদের মোবাইল এবং ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।
ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, নিউজক্লিক চীন থেকে অবৈধ তহবিল পেয়েছে এমন একটি অভিযোগের তদন্ত করছেন তারা। কিন্তু এই অভিযোগ এটি অস্বীকার করেছে নিউজ পোর্টালটি।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, অভিযানের সময়, পুলিশ ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং হার্ডডিস্ক থেকে ডাটা ডাম্প সহ যথেষ্ট পরিমাণে ইলেকট্রনিক প্রমাণ বাজেয়াপ্ত করেছে। স্পেশাল সেল নতুন মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন নিউজক্লিক সম্পাদক প্রবীর পুরকায়স্থ, সাংবাদিক অভিসার শর্মা, অনিন্দ্য চক্রবর্তী এবং ভাষা সিং, জনপ্রিয় ব্যঙ্গশিল্পী সঞ্জয় রাজৌরা এবং ইতিহাসবিদ সোহেল হাশমি। তাদের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এ অভিযানের বিষয়ে পুলিশ কোন মন্তব্য না করলেও সাংবাদিক মিঃ শর্মা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন যে পুলিশ তার ফোন এবং ল্যাপটপ কেড়ে নিয়েছে। এ ছাড়া মিসেস সিং জানিয়েছেন যে পুলিশ তার ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে।
এদিকে সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে দিল্লিতে নিউজক্লিক ওয়েবসাইটের অফিসেও অনুসন্ধান চলছে।
সম্প্রতি গেলো মাসে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয় যে ভারতে নিউজক্লিক ওয়েবসাইটটি "চীনা প্রচার" ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমেরিকান কোটিপতির কাছ থেকে তহবিল পেয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের পর আগস্ট মাসে নিউজক্লিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং বর্তমানে সেই নথিভুক্ত মামলার অভিযান চালানো হচ্ছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে, আমেরিকান কোটিপতি নেভিল রায় সিংহাম চীনের সরকারী মিডিয়ার সাথে মিশে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং তার অলাভজনক গ্রুপ এবং শেল কোম্পানিগুলির নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে চীনের হয়ে প্রচার চালাচ্ছে।
এ ছাড়া এমনও অভিযোগ রয়েছে এ নেভিল রায় সিংহম তাঁর নিউজক্লিক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে চিনের কমিউনিস্ট পার্টির রাজনৈতিক এজেন্ডা গোটা বিশ্বে প্রচার করছে।
যদিও এই অভিযানকে অনেকেই ভালোভাবে নিচ্ছেন না। সমালোচকরা বলছেন, এই পদক্ষেপটি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর ইচ্ছাকৃত আক্রমণ।
