সেন্ট মার্টিনে শিক্ষা সফরে গিয়ে বৈরি আবহাওয়ার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইতিহাস বিভাগের তিন শিক্ষক ও ৭৭ জন শিক্ষার্থী আটকা পড়েছেন। তাদের মধ্যে এক শিক্ষক ও কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও জানা গেছে।
গত বুধবার (৪ অক্টোবর) কক্সবাজার ফেরার কথা থাকলেও আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত থাকায় তারা ফিরতে পারেননি। এখন পর্যন্ত তারা সেন্ট মার্টিনেই অবস্থান করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সোমবার রাতে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সুরমা জাকারিয়া, সহকারী অধ্যাপক সজীব কুমার বণিক ও হাবিবউল্লাহ মিলনের তত্ত্বাবধানে চতুর্থ বর্ষের ৭৭ জন শিক্ষার্থীর একটি দল কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিনে শিক্ষা সফরে যান। ৩ সেপ্টেম্বর তারা সেন্ট মার্টিনে পৌঁছান।
তবে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করায় গত মঙ্গলবার বিকেলে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। যা আজ বৃহস্পতিবারও বলবৎ আছে। এতে আজও টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ আছে। এর ফলে সেন্ট মার্টিনে আটকা পড়া সাড়ে কয়েকশ’ পর্যটক আজও ফিরতে পারেননি।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বলে জানা যায়, সেন্ট মার্টিনে লোডশেডিং, খাদ্য সংকট ও বাসস্থান সমস্যা থাকায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। লঘুচাপ না কাটায় তারা ফিরতে পারছেন না। প্রথম দিকে ১৭টি কক্ষ নিলেও বর্তমানে ৯টি কক্ষে অবস্থান করছেন তারা।
সহকারী অধ্যাপক সজীব কুমার বণিক বলেন, আমরা কয়েকদিন যাবৎ আটকা পড়েছি, ফিরে আসাটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। খাবার নিয়ে অনেক জটিলতা হচ্ছে, এখানে যে ধরনের খাবার পাওয়া যাচ্ছে তা খেয়ে আমাদের একজন শিক্ষক ও কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমাদের বাজেটও শেষের দিকে, ফলে বাজেট সংকটেও আছি। এতজন মানুষের বাসস্থান সমস্যা হচ্ছে। রাতের বেলা মশা থাকে, বিদ্যুৎ থাকে না, দিনের বেলায় প্রচুর গরম। ফলে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।