পুলিশ হেফাজতে মারা যাওয়া দুদকের অবসরপ্রাপ্ত উপপরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহকে (৬৪) আদালতে হাজিরের সমন আটকে রেখে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম-৬ আদালতের বেঞ্চ সহকারী হারুন উর রশিদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠার পর তাকে বদলির আদেশ জারি করেছেন ওই আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক জুয়েল দেব।
হারুন উর রশিদকে বিচার সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে সরিয়ে ‘ক্যাশিয়ার’ পদে বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে। এর আগে ২৯ আগস্ট শহীদুল্লাহসহ নয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করে রনি আক্তার তানিয়া নামে এক নারী। ওই মামলায় ৩ অক্টোবর রাতে চান্দগাঁও থানার এক কিলোমিটার এলাকার বাসা থেকে শহীদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
হারুন উর রশিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমএম আদালতের নাজির আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুদকের সাবেক কর্মকর্তা শহীদুল্লাহর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় তাকে হাজিরের জন্য সমন জারির আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। কিন্তু সেই আদেশ কার্যকর না করে আদালতকে বিভ্রান্ত করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করানোর অভিযোগ ওঠে বেঞ্চ সহকারী হারুন উর রশিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত সিএমএম স্যার এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।’
পুলিশ বলছে, ওই নারীর করা মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় শহীদুল্লাকে আটক করে চান্দগাঁও থানায় নিয়ে ওসির কক্ষে বসানো হয়। পরিবারের অভিযোগ, বাসা থেকে শহীদুল্লাহকে টেনেহিঁচড়ে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। হৃদরোগে আক্রান্ত শহীদুল্লাহকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থবোধ করলে তাকে ইনহেলার স্প্রে করতে দেয়নি পুলিশ। থানা ভবনেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন শহীদুল্লাহ। থানায় সঙ্গে যাওয়া ছোট ভাই শহীদুল্লাহকে বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালে নিয়ে যান। শহীদুল্লাহকে আদালতে হাজির করার সমন জারি করলেও সেটা গোপন রেখে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পুলিশ সেই পরোয়ানামূলে শহীদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছিল। পরবর্তীসময়ে তিনি মারা যান।
পরিবারের অভিযোগ পেয়ে শহীদুল্লাহকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে বিধিবহির্ভূত কোনো কাজ করা হয়েছে কি না এবং থানায় নিয়ে যাওয়ার পর তার সঙ্গে নিয়ম বহির্ভূত কোনো আচরণ করা হয়েছে কি না সেটা নির্ণয়ের জন্য সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর জোনের উপকমিশনারকে প্রধান করে কমিটিতে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) এবং বিশেষ শাখার সহকারী কমিশনারকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছিল।
