এমপি শাহে আলমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-জমি দখলসহ ১৭ অভিযোগ আ.লীগের

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৩, ০৫:৪৪ পিএম

চাঁদাবাজি, জমি দখল ও দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুন্নসহ ১৭টি অভিযোগে বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য শাহে আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ। গত ৩ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত নোটিশের জবাব ১৫ দিনের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে। তবে গতকাল সোমবার বিকেলে এমপি মো. শাহে আলম ওই নোটিশ পাননি বলে দাবি করেছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. গোলাম ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে আমি কোন বক্তব্য দেব না। দলের মুখপাত্র হচ্ছে সাধারণ সম্পাদক, তার সাথে কথা বলুন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মাওলাদ হোসেন সানা বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন সদস্য মো. শাহে আলম এমপি। তাই তাকে দলীয় নিয়মানুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। নোটিশের জবাব না পেলে নিয়মানুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

গণমাধ্যমে পাঠানো নোটিশে বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. গোলাম ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মাওলাদ হোসেন সানার স্বাক্ষর রয়েছে। চার পৃষ্ঠার নোটিশে এমপির বিরুদ্ধে ১৭টি বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে দলীয় কার্যালয় নির্মানের জন্য গচ্ছিত টাকা আটকে রাখা, দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি করে নিজস্ব বলয় তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া, বানারীপাড়া পৌরসভাসহ দুটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া, দলীয় কর্মসূচি এড়িয়ে আলাদা কর্মসূচি করা, অনুসারী ও আত্মীয়-স্বজন নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের সাথে অশোভন আচরণ করা, আত্মীয় স্বজনদের মাঝে ঠিকাদারী কাজ ভাগ করে দেয়া এবং নামে চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগ আনা হয়ছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, তিনি এমপি নির্বাচিত হয়ে নৌকা প্রতিকের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়েছেন বানারীপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তার চাচাতো ভাইকে বিদ্রেহী প্রার্থী দিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে পরাজিত করেন। এমপি শাহে আলম তার হাতুড়ি বাহিনী দিয়ে বানারীপাড়া দলের কর্মী আতিক বাপ্পিকে নির্মাম নির্যাতন করান। হাত পা ভেঙে দেওয়ায় সে প্রায় ৬ মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলে মিথ্যা মামলা দিয়ে বাপ্পীর স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে জেল খাটানোর অভিযোগ রয়েছে এমপি শাহে আলমের বিরুদ্ধে। ইটবাটা দিয়ে চাঁদাবাজি করেছেন এমপি শাহে আলম। ঠিকাদারী কাজে তার ফাইভ পাসেন্ট চাঁদাবাজী অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। বানারীপাড়ায় সংখ্যালঘুদের জমি দখল করার অভিযোগ রয়েছে এমপি শাহে আলমের বিরুদ্ধে। তার নানা কর্মকান্ডে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দলের নেতাকর্মীরাও এখন বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন।

এমপির কারণে দলের ইমেজ সংকটে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন বানারী পাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতারা।

এমপি শাহে আলম এমন কোন নোটিশ পাননি দাবি করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি বিষয়টি জানি না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত