রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে ছাত্রদলের চারজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (০২ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ হাসান, সদস্য জাকির রেদোয়ান, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের নেতা নাহিদুজ্জামান ও শহীদ শামসুজ্জোহা হলের নেতা জাকির হোসেন। এদের মধ্যে মারুফ হাসান ও জাকির রেদুয়ান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। বাকি দুইজন বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
মারধরে অভিযুক্তরা হলেন সহসভাপতি মোমিন ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান সোহাগ, কাইয়ুম মিয়া, সদ্য সাবেক কমিটির উপ ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক রাব্বিউল হাসান রুপক, ছাত্রলীগকর্মী আশরাফুল, তামিম, আকাশ, সোহাগ, সাদিক ও সানি প্রমুখ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিএনপির ঘোষিত দেশব্যাপী সর্বাত্মক অবরোধের সমর্থনে কর্মসূচি পালন করছিল বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জিয়া পরিষদ। আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জিয়া পরিষদের কর্মসূচিতে যোগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে অবস্থান করছিল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেলে এসে ছাত্রদলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার এক পর্যায়ে ছাত্রদলের চারজনকে তুলে নিয়ে যায় তারা। পরে তাদেরকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনের সামনে বেধড়ক মারধর করেন তারা।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান মিঠু অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা কর্মসূচিতে অংশ নিতে কয়েকজন নেতাকর্মী মেইন গেটে অবস্থান করছিলাম। এ সময় ছাত্রলীগ নেতা জাহিদ হাসান সোহাগের নেতৃত্বে কয়েকজন মোটরসাইকেল নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। রামদা, ছুরিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারা এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা আমাদের চারজনকে তুলে নিয়ে যায় এবং মারধর করে। পরে প্যারিস রোড থেকে আমরা পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্ধার করি।’
হামলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিব বলেন, বিএনপি-জামায়াতের ছাত্রসংগঠন বিগত কিছুদিন ধরে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে। তাদেরকে প্রতিহত করতে ক্যাম্পাসে আমরা অবস্থান নিয়েছি। আজ সকালেও ছাত্রদলের কতিপয় উশৃঙ্খল ক্যাডার বাহিনী ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছিল। এ সময় আমরা তাদেরকে প্রতিহত করেছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, ‘বিএনপিপন্থী একজন শিক্ষকের কাছ থেকে খবরটি জানতে পেরেছি। হামলার বিষয়টি ছাত্রলীগের নেতারা অস্বীকার করেছে। তবে ছাত্রদলের কেউ এখনো লিখিত অভিযোগ করেনি।’
