জাপার সংসদ সদস্যদের কণ্ঠে বিদায়ের সুর

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৩, ১০:২৭ পিএম

একাদশ জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশনের সমাপ্তির দিনে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যদের কণ্ঠে ছিল বিদায়ের সুর। বিল পাসসহ অন্যান্য আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা বার বার সংসদ অধিবেশন শেষ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। এ ছাড়া স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর ভূমিকারও ভূয়সী প্রশংসা করেন তারা।

আজ বৃহস্পতিবার বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম স্পিকারকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনার নেতৃত্বে আমরা এই ১০ বছর (দুই টার্ম) কাটালাম। এ জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনি জীবনে আরও এগিয়ে যান। আরও নেতৃত্ব দেন।

তিনি বলেন, আজকে আবহাওয়াটা এমন হয়েছে, যেন আজকেই শেষ। আগেই বলেছি, আজকে বোধ হয় শেষ হবে। আমরা কে কী কোথায় কীভাবে থাকি জানি না।

পরে তিনি ‘তবু মনে রেখো‘ কবিতা আবৃত্তি করে শোনান। তার আবৃত্তি করা কবিতাটির অংশ ছিল, ‘তবু মনে রেখো যদি দূরে যাই চলে। যদি পুরাতন প্রেম ঢাকা পড়ে যায় নব প্রেমজালে। যদি থাকি কাছাকাছি, দেখিতে না পাও ছায়ার মতন আছি না আছি-- তবু মনে রেখো। যদি জল আসে আঁখিপাতে, এক দিন যদি খেলা থেমে যায় মধুরাতে, তবু মনে রেখো।’

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক (চুন্নু) বলেন, আমি একটু অন্যভাবে বলতে চাই। একটু বিষাদের মতো। বলতে চাই, ‘বিদায় দে মা আবার ঘুরে আসি।’ আবার ঘুরে আসি।

স্পিকারকে উদ্দেশ করে চুন্নু বলেন, আপনার সঙ্গে আমার একাধিক সম্পর্ক। একটি হচ্ছে এই সংসদে আপনি আমার স্পিকার। আরেকটা হচ্ছে, আপনি আমার এলাকার বউমা। আমার আগের স্পিকার ছিলেন আমার এলাকার জামাতা। দুই জন স্পিকারের শ্বশুর বাড়ি আমার এলাকায়। এটা অনেক বড় বিষয়।  আপনি আর আমি দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিভাগের স্টুডেন্ট। আমি টেনেটুনে পাস করা। আপনি ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট। ঢাবির ছাত্র হিসেবে আমরা আপনাকে নিয়ে গর্ববোধ করি। আপনি সফল স্পিকার, আপনার জন্য দোয়া করি।

জাতীয় পার্টি সংসদে প্রকৃত বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করেছে দাবি বরে মুজিবুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। আমরাও সংসদে অপজিশন। আমি মনে করি, বিরোধী দলের এমপিরা আমরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছি। এমন কোন বিল নেই, যেটা নিয়ে আলোচনা করিনি। জনগণের স্বার্থে এমন কোন ইস্যু নেই, যেটা নিয়ে কথা বলিনি। প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনাও আমরা করতে পেরেছি। কোনোরকম বাধা পাইনি।

সুনামগঞ্জ থেকে নির্বাচিত জাপার এমপি পীর ফজলুর রহমান বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীসহ বর্ণাঢ্য ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ পেয়েছি। শেষ দিনের শেষ কার্য দিবস। কথা বলার অবারিত সুযোগ করে দিয়েছিলেন। আমরা বার বার কথা বলেছি। মানুষের স্বার্থে কথা বলেছি। কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার জন্য কথা বলিনি। কোনও মন্ত্রীর থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের জন্য কথা বলিনি, যাইনি।

গাইবান্ধা থেকে নির্বাচিত এমপি শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, বিগত ৫ বছর এই সংসদে ছিলাম। অসংখ্য মিনিট আমরা কথা বলেছি। আপনি সুযোগ দিয়েছেন,  অত্যন্ত সুন্দর ও ফেয়ারলি। অনেকের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছি এবং কঠোরভাবে সমালোচনা করেছি। সবাই তা শুনেছেন। কখনও উগ্র ভষায় জবাব দেননি। এটা আমাদের দায়িত্ব ছিল। দেশের কিছু স্বার্থও এর মধ্য দিয়ে আমরা করেছি। আপনি আমাদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহাশিস।

তিনি বলেন, আজকে এই সংসদ অধিবেশনের হয়তো বা শেষ দিন হতে পারে। এ জন্য সবার কাছে দোয়াও চাচ্ছি। জুনিয়র সংসদ সদস্য হিসেবে অনেক কথা বলেছি। অনেকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারেন। এ জন্য ক্ষমতাও চাচ্ছি। তবে আমরা জনগণের জন্য কথা বলেছি।

দলটির এমপি রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, আমরা জানি না ভবিষ্যতে কারা আসবেন। ইলেকশন হবে। জানি না কারা আয় (আসে)। আল্লাহ যাকে লিখে রাখছেন তারা আসবে। ক্ষমতা দেওয়ার মালিক আল্লাহ। সম্মান দেওয়ার মালিক আল্লাহ। এজন্য হতাশার কোনও কারণ নেই।

জাতীয় পার্টির রওশন আরা মান্নান বলেন, দুই বছর করোনার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। তিন বছর আমরা তেমন কোন কাজ করতে পারি। এ বিষয়টি যেন প্রধানমন্ত্রী স্মরণ রাখার অনুরোধ করেন।

দলটির আরেক সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, উনি পরোক্ষভাবে সংসদের মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলতে চাচ্ছেন। স্পিকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনি সুন্দরভাবে সংসদ চালিয়েছেন। বিদেশে সম্মেলনে গিয়েছি। সব কিছু মিলিয়ে আমরা এই সংসদে ছিলাম। আবার কবে, আসতে পারি কি না জানি না। এত বড় জায়গায় আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ আসতে পারে না। হয়তো অন্য কোথাও দেখা হবে।

রওশন আরা মান্নানের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, আমাদের সংসদ সদস্য রওশন আরা মান্নান বললেন, দুই-তিন বছর নষ্ট হয়ে গেছে। উনি পরোক্ষভাবে সংসদের মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলতে চাচ্ছেন। আমি যেটা বুঝেছি। উনি পরোক্ষভাবে বলেছেন, আমি সোজা মানুষতো তাই সোজাভাবে বললাম। একটু বিবেচনা করে দেখতে পারেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত