কক্সবাজারের উখিয়ায় বিএনপি নেতাকে ধরতে গেলে র্যাবের সাথে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে ৭/৮ গ্রামবাসী আহত ও ১০/১২টি দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে দাবি করেন উপজেলা বিএনপির নেতারা।
রবিবার রাত ১০টায় উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পাইন্যাশিয়া গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে।
র্যাব, পুলিশ, বিএনপি ও গ্রামবাসীর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, গেল ২৯ অক্টোবর উখিয়া থানায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদকে চৌধুরীকে প্রধান আসামি করে একটি নাশকতা মামলা হয়। সে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে রবিবার রাতে সুলতান মাহমুদের গ্রামের বাড়ি যায় র্যাব। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে গ্রামবাসী র্যাবকে চারপাশ দিয়ে ঘিরে ফেলে। একই সাথে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। র্যাবও আত্মরক্ষার্থে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে অতিরিক্ত র্যাব সদস্য সেখানে গেলে গ্রামবাসী সরে যায়।
তবে র্যাব ১৫-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে র্যাবের একটি গাড়ি বিএনপির নেতা সুলতান মাহমুদের বাড়ির পাশের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। এসময় নাশকতা মামলার প্রধান আসামি ও বিএনপি নেতা সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে র্যাবের ওপর অতর্কিতভাবে সন্ত্রাসীরা প্রথমে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং পরে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করা হয়। এতে র্যাবের কেউ আহত না হলেও কয়েকজন পথচারী আহত হয়েছেন বলে শুনেছি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর রাত থেকেই ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে র্যাব। অভিযান শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে।
উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অভিযুক্ত সুলতান মাহমুদ চৌধুরীর সাথে কয়েকদফা ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি ক্ষুদেবার্তার জবাবও দেননি। তবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, র্যাবের প্রায় ১০/১২টি গাড়ি রাতের বেলা সুলতান মাহমুদের গ্রামের বাড়িতে যায়। সেখানে তখন সুলতান ছিলেন না। এত র্যাবের গাড়ি দেখে উৎসুক গ্রামবাসী সুলতানের বাড়ির চারপাশে ভিড় জমায়। ওই সময় র্যাব রাতের আঁধারে প্রায় দুইশ রাউন্ড গুলি ছোড়ে ও ভাঙচুর চালায়। এতে কমপক্ষে ৭/৮ জন নিরীহ লোক আহত হন ও সুলতান মাহমুদের ঘরসহ ৯/১০টি দোকানপাট, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, রবিবারের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। মামলার আসামি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধরতে আসবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু গুলি করা ভাঙচুর চালানোর মতো ঘটনা আমরা তাদের কাছ থেকে আশা করি না।
উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, নাশকতা মামলার প্রধান আসামি বিএনপি নেতা সুলতান মাহমুদকে ধরতে অভিযানে যায় র্যাব। এলাকায় র্যাবের দল ঢুকছে শুনে সুলতান তার দলীয় নেতাকর্মীসহ গ্রামবাসীকে দিয়ে র্যাবকে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করে। র্যাব আত্মরক্ষার্থে প্রায় ১০০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালিয়েছে বলে শুনেছি।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশ অ্যাসল্ট আইনের ধারায় এজাহার দেওয়া হবে বলে আমাকে ফোনে জানিয়েছে র্যাব। তবে এখনো পর্যন্ত আমি এজাহার পাইনি।
