রণক্ষেত্র গাজীপুরের নাওজোড়, ৫ পুলিশ সদস্য আহত

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৩, ০৭:৩৩ পিএম

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। আজ বুধবার (৮ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় পুরো নাওজোড় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিন জনের অবস্থা গুরুতর। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম জানান, আহতবস্থায় পাঁচজন পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত পুলিশ সদস্য প্রবীর (৩০), ফুয়াদ (২৮) ও খোরশেদকে (৩০) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আশিকুল (২৭) ও বিপুলকে (২৪) হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। 

গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মাহবুব আলম বলেন, বুধবার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে মোট আট জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। সকালে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন ও বিকেলে নাওজোড় এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা পাঁচজন আহত হয়েছে।

জানা গেছে, পোশাকশ্রমিকদের নূন্যতম বেতন ২৩ হাজার টাকা করার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরের কোনাবাড়ি, কাশিমপুর, সফিপুর ও মৌচাকসহ আশপাশের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলন করে আসছে। এর পরিপ্রেক্ষিত্রে আজ বুধবার সকালে আন্দোলন করে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এসময় এক নারী শ্রমিক নিহত হন। এরপর পরিস্থিতি পুরোই স্বাভাবিক ছিল। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাওজোড় এলাকায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়ায় শ্রমিকরা। শ্রমিকরা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এসময় সংঘর্ষে পুলিশের পাঁচ সদস্য গুরুতর আহত হন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠে। পরে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, র‌্যাবের সমন্বয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে শ্রমিকরা পিছু হটে। তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। শ্রমিকরা ভাওয়াল বদলে আলম সরকারি কলেজের সামনের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করো।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, পুলিশের এপিসি কারের ভিতর যে পুলিশ সদস্যরা ছিলেন তাদের অসাবধানতায় বিস্ফোরণে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

এদিকে, কোনাবাড়ি এলাকায় সকালে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে এক শ্রমিক নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাকি ছিল। বিকাল ৩টার দিকে ফের শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসে। মহাসড়কে উঠার চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে এবং টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। 

অপরদিকে, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বিকাল সাড়ের ৪টার দিকে চান্দনা চৌরাস্তা-জয়দেবপুর সড়ক দিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিট কার্যালয়ের দিকে যায়। এসময় আশপাশের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় ঢিল ছুড়ে কারখানাগুলোর জানালার কাঁচ ভাঙচুর করে। বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শ্রমিকরা জয়দেবপুরের দিকে এগুতে থাকলে পুলিশ টিয়ারসেল ও রাবার সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত