বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যান্য নেতাকর্মীদের মুক্তি, গ্রেপ্তার বন্ধ এবং নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।
আজ বৃহস্পতিবার (০৯ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, আপনারা যদি জনগণের ভাষা বুঝতে না পারেন, তাহলে আমরা মনে করি জনগণের দাবির কাছে, গণ-আন্দোলনের কাছে আপনাদের পদত্যাগ করতেই হবে। হয় জনগণের আন্দোলনের মুখে নতি স্বীকার করে আপনারা পদত্যাগ করবেন, অন্যথায় এদেশের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার নিয়ে বিদেশি মহল যে উদ্বেগ ব্যক্ত করেছে, আমরা মনে করি তাদের চাপেও হয়তো আপনাদের পদত্যাগ করতে হবে। অন্যদিকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা এবং বাজারমূল্য, সবকিছু বিবেচনা করলে, হয়তো একদিন দেশ চালাতে ব্যর্থ হয়েও আপনাদের পদত্যাগ করতে হতে পারে। সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান, আপনার পদত্যাগ করে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। আমরা আপনাদের কাছ থেকে সেই সৎসাহস প্রত্যাশা করি।
সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষক সমাজ পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে আজকে এখানে দাঁড়িয়েছি। বিএনপি এবং সমমনা দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে। তারই অংশ হিসেবে গত ২৮ অক্টোবর সবচেয়ে বড় সমাবেশ ডাকেন বিএনপি। কিন্তু সেখানে পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করে সমাবেশকে ভণ্ডুল করে এই সরকার। এবং সেদিনের ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ দলের অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে. ইতিমধ্যে এই গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১০ হাজারে উন্নীত হয়েছে বলে আমাদের বিশ্বাস। সরকার এমন প্রহসনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের দেশের গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। কিন্তু তারা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের প্রতিক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে এবং জনগণের গণপ্রত্যাশা ও গণদাবির তোয়াক্কা না করে গায়ের জোরে এবং পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে ২০১৮ সালের মতো আরেকটি প্রহসনমূলক নির্বাচনের দিকে হাঁটছে।
সংগঠনটির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, দেশে এখন চরম ফ্যাসিস্ট সরকারের দুঃশাসন চলছে। ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংসতম সরকার এখন দেশ চালাচ্ছে। জাতি এই ফ্যাসিস্ট হাসিনা রেজিমের অবসান চায়। ২৮ অক্টোবরের ঘটনা সরকারের সাজানো, তারা নিজেরা গাড়ি পুড়িয়েছে। বর্তমান সরকার যেকোনো উপায়ে আন্দোলন নস্যাৎ করতে চায়। সারা দেশটাকে সরকার এখন কারাগারে পরিণত করেছে।
