সাংবাদিকদের ড. ইউনূস

ব্যক্তিগত লাভের জন্য কিছু করিনি

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:৫৮ এএম

শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় নোবেল বিজয়ী ও গ্রামীণ টেলিকমের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেছেন, ব্যক্তিগত লাভের জন্য তিনি কিছু করেননি। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচারের আরজি জানান তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে হাজির হয়ে ড. ইউনূস শুনানিতে অংশ নেন।

দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড়ে শ্রম আদালতে হাজির হন ড. ইউনূস। তার এবং মামলার অন্য তিন অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এরপর আদালতের বিচারক বেগম শেখ মেরিনা সুলতানা এ মামলার সর্বশেষ ধাপ যুক্তিতর্কের শুনানির জন্য আগামী ১৬ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।

আদালতে কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী ও মো. খুরশীদ আলম খান শুনানি করেন।

আদালত থেকে বেরিয়ে ড. ইউনূস উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত মুনাফার জন্য কিছু করিনি। ৫০টির ওপরে কোম্পানি করেছি। কোনটাই ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হব এ উদ্দেশ্যে করিনি।’ ব্যবসার মাধ্যমে মানুষের উপকার করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, কাজেই যেটার উদ্দেশ্য লাভবান হওয়া নয় সেটা থেকে কীভাবে লাভবান হবেন তিনি।

ড. ইউনূস বলেন, ‘শ্রমিকদের যদি কষ্ট দিয়ে থাকি কী জন্য দেব? নিজে লাভবান হওয়ার জন্য নাকি অন্যকে, নিজের আত্মীয়-স্বজনকে লাভবান করার জন্য?’

নিজেদের উদ্দেশ্য, আদর্শ ও কর্মসূচি ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য নয় উল্লেখ করে এই নোবেল বিজয়ী বলেন, ‘আমার উদ্দেশ্য ছিল, মালিকমুক্ত হতে চাই।’ এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা তো (ভুল কিংবা অসাবধানতাবশত) হতেই পারে। মানুষ অসাবধান হতে পারে, ভুল করতে পারে। মানুষ তো আর ফেরেসতা নয়। কিন্তু ভুল ভ্রান্তি এক জিনিস আর অপরাধ আরেক জিনিস।’

আদালতে কী আরজি জানিয়েছেন এমন প্রশ্নে ড. ইউনূস বলেন, ‘ন্যায়বিচার। আদালতের কাছে আর কী চাইতে পারি।’

গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেওয়া, শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী না করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার শ্রম আদালতে এ মামলা হয়। মামলায় ড. ইউনূস ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান, দুই পরিচালক নূরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহানকে অভিযুক্ত করা হয়। গত ২২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর ৬ নভেম্বর চতুর্থ সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ধার্য করে আদালত।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত