সিইসি শেখ হাসিনার কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন: রিজভী

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:১৪ পিএম

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘দেশে গণতন্ত্র এখন মৃত। আজকে প্রধান নির্বাচন কমিশন (সিইসি) অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থ রক্ষা না করে শেখ হাসিনার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছেন। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আজকে যে ধারাবাহিক আন্দোলন এবং এই আন্দোলন করতে গিয়ে অসংখ্য নেতাকর্মীর যে আত্মদান, তাদের যে রক্তদান এটাকে উপেক্ষা করে কমিশন একতরফাভাবে তফসিল ঘোষণা করেছে। দেশের সুশীল সমাজ, নাগরিক সমাজ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিদেশী কূটনীতিকদের আবেদন অগ্রাহ্য করে তিনি শুধুমাত্র একনায়ক, গণতন্ত্র বিরোধী ও ভোটারবিহীন সরকার প্রধানের কথা শুনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন।’

আজ শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘ গত ২৪ ঘন্টায় সারাদেশে ৩৯৫ জনের অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন মামলায় আসামি করা হয়েছে ১ হাজার ৬৫ জনের অধিক নেতাকর্মীকে। দেশের জনগনকে দমন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সারা দেশে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে বন্দি করেছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শাহজাহার ওমর বীরউত্তম, মোহাম্মদ শাহজাহানসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি যে ফেরাউনের রাজত্ব কায়েম করেছেন-এটাই তার প্রমাণ। বর্তমান সরকারের পতন হবেই।’

তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণ তার নিজের ভোট নিজে দিতে চায়। এ জন্য তারা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে নামার পর তাদের রক্ত ঝরাতে শুরু করেছে সরকার। দেশের গণতন্ত্রকামী জনগোষ্ঠী এখন শেখ হাসিনার বুলেটের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন।’

রিজভী বলেন, ‘একতরফা নির্বাচনকে প্রতিহত করতে জনগন প্রাণ হাতে নিয়ে সংগ্রাম করছে। জনগনের ক্ষমতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার চলমান আন্দোলন সকল স্বৈরাচারির জন্য হবে সর্তক বার্তা। দেড় দশক ধরে রাজনৈতিক সংকট এখন চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জনগনই বাংলাদেশের ত্রাণ কর্তা।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে এখন শনির দশায় পেয়েছে। জনসমর্থনে তাদের হাল শুণ্যের কোঠায়। ওরা শুধু ক্ষমতার নেশায় বুঁদ হয়ে শুরু করেছে রক্তাক্ত তান্ডব। বিএনপি নেতাকর্মীরা পাইকারিহারে গ্রেফতারের শিকার। তাদের ধরতে না পারলে গ্রেপ্তার হচ্ছেন বাবা, শ্বশুর, ছোট ভাই এমনকি বাড়ির মেয়েরা পর্যন্ত। বিএনপির নেতা-কর্মীদেও গ্রেফতারের জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উস্কে দিচ্ছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত