ঘূর্ণিঝড় মিধিলির আঘাতে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ জেলায় কৃষি খাতে ৬০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আর কাঁচা-পাকা বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হওয়া ও অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে। এতে সীমাহীন ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন স্থানীয়রা।।
কলাপাড়ার কৃষক মো. আনসার হাওলাদার বলেন, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির আঘাতে রোপা আমন, খেসারি, শাকসবজিসহ বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এতে কৃষকের সব শেষ। সরকার যদি কৃষকের পাশে না দাঁড়ায় তাহলে ঘুরে দাঁড়াতে পারবো না।
মহিপুর এলাকার বাসিন্দা মো. মিজান বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের সময় হঠাৎ এতো জোরে বাতাস আসছে কিছু বুঝে ওঠার আগে সব শেষ করে দিয়েছে। মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটা কেরে নিল। এখন ঘর না তোলা পর্যন্ত খোলা আকাশ ভরসা।
নীলগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মোশাররফ বলেন, গতকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে ও তার ছিঁড়ে পড়ার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে বিদ্যুৎ ও মোবাইল সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামের বাসিন্দারা। ভোগান্তি দূর করতে দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি তার।
একই এলাকার কৃষক নাজিম মোল্লা বলেন, বর্তমানে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মাঠ ও বীজতলা ঠিক করতে ও মাঠের পানি অপসারণ করতে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা। এখন একমাত্র আল্লাহ ভরসা।
পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির আঘাতে রোপা আমন, খেসারি, শাকসবজিসহ বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এতে কৃষি খাতে জেলায় ৬০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে মাঠের পানি দ্রুত নামাতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
পটুয়াখালী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সুমন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, "ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলির আঘাতে ১৩১ টি কাঁচা বাড়িঘর আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। ৬টি পাকা বাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে ও ১ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আর অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে বলে তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তবে সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। পরিপূর্ণ তথ্য পেতে আরও এক-দুই দিন সময় দিতে হবে।"
