সারা বিশ্বের অর্থনীতিই যাচ্ছে অস্থিরতার মধ্যে। বিশ্ব অর্থনীতির প্রভাব পড়েছে দেশের সোনার দামে। পাল্লা দিয়ে প্রতিনিয়তই বাড়ছে সোনার দাম। সর্বশেষ গতকাল শনিবার ভালো মানের ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিতে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৭৬ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। দুই সপ্তাহের মাথায় ভরিতে ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়ল।
গত এক বছরের সোনার দামের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর ভালো মানের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮২ হাজার ৪৬৫ টাকা। গতকাল নির্ধারণ করা সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৩৭৬ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে সোনার দাম বেড়েছে ২৩ হাজার ৭১১ টাকা।
স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে। আজ রবিবার থেকে এই দাম কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে বাজুস।
এর আগে গত ৬ নভেম্বর ও ২৭ অক্টোবর আরও দুই দফা সোনার দাম বাড়ানো হয়। ৬ নভেম্বর ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়ানো হয়। এতে এই মানের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৬২৬ টাকা হয়। এর মাধ্যমে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে সোনার দাম।
সোনার দামে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হওয়ার ১২ দিনের মাথায় এই ধাতুটির দাম আরও বেড়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল। গতকাল শনিবার বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠক করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান এম এ হান্নান আজাদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম বেড়েছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশন সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করেছে, যা আজ রবিবার থেকে কার্যকর হবে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৭৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ১ হাজার ৫৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৩৯৯ টাকা বাড়িয়ে ৮৭ হাজার ১৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ২২৫ টাকা বাড়িয়ে ৭২ হাজার ৫৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অবশ্য সোনার গহনা কিনতে ক্রেতাদের এর থেকে বেশি অর্থ গুনতে হবে। কারণ বাজুস নির্ধারণ করা দামের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করে সোনার গহনা বিক্রি করা হয়। সেই সঙ্গে ভরিপ্রতি মজুরি ধরা হয় ন্যূনতম ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা। ফলে আগামীকাল থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনা কিনতে ক্রেতাদের ১ লাখ ১৫ হাজার ১৯৪ টাকা গুনতে হবে।
এর আগে গত ৬ নভেম্বর ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৬২৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়িয়ে ৯৯ হাজার ৯০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪০০ টাকা বাড়িয়ে ৮৫ হাজার ৬১৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ১৬৬ টাকা বাড়িয়ে ৭১ হাজার ৩২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। গতকাল শনিবার পর্যন্ত দেশের বাজারে এই দামেই সোনা বিক্রি হয়েছে।
যেকোনো ধরনের বৈশ্বিক সংকট সোনার দামে প্রভাব ফেলে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। যখনই সংকট, ডলারের মূল্য, তেলের দাম, মুদ্রাস্ফীতি, মূল্যস্ফীতি, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বাড়িয়ে দেয় তখন বাংলাদেশেও এর দাম বাড়ে।
