নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে দেশে ধারাবাহিক হরতাল-অবরোধের মতো সহিংস কার্যক্রম চলছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকা অব্যাহত অবমূল্যায়নও ঠেকানো যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই চলতি অর্থবছরে ২০ শতাংশ বেশি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) প্রত্যাশা করছেন দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। গতকাল রবিবার থেকে র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে শুরু হওয়া দুদিনব্যাপী ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ফিকি) বিনিয়োগ মেলায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধারাবাহিক ভূমিকার গৌরবময় যাত্রার ছয় দশক উদযাপন উপলক্ষে ৬০তম বর্ষপূর্তি ও ইনভেস্টমেন্ট এক্সপো ২০২৩-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ‘ক্যাটালাইজিং গ্রেটার এফডিআই ফর ভিশন ২০৪১ : প্রায়োরিটিজ ফর বিল্ডিং এ কনডিউসিভ ট্যাক্স সিস্টেম ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি গবেষণা বই এবং ‘ইএসজি স্ট্র্যাটেজিস অ্যান্ড ইমপেক্ট ফ্রম দ্য মেম্বারস অব ফিকি’ শীর্ষক একটি প্রকাশনারও উদ্বোধন করেন।
বিনিয়োগ মেলায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ফিকির সব সদস্য ও স্টেকহোল্ডারদের নিরলস প্রচেষ্টায় আজ এ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। দেশে এখন ১০০টিরও বেশি অর্থনৈতিক জোন তৈরি করা হয়েছে।
টিপু মুনশি বলেন, বিগত বছরের তুলনায় ২০২৩ সালে ২০ শতাংশ বেশি এফডিআই আসবে বলে আমরা সবাই আশাবাদী। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, জাতির পিতার স্বপ্নের দেশ গঠনে এবং ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো উন্নয়নে ফিকি কাজ করে যাচ্ছে এবং আগামীতেও এ ধারাবাহিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ফিকির সদস্যদের নিরলস প্রচেষ্টায় চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে আমাদের বিশ্বব্যাপী একটি শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে সবার সামনে তুলে ধরবে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে প্রতিভার মূল্যায়ন ও সে অনুযায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
ফিকির সভাপতি নাসের এজাজ বিজয় বলেন, দেশের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশে নিজেদের অংশীদারত্বকে স্থায়ী করে বাংলাদেশকে একটি শান্তিপূর্ণ বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে ফিকির সদস্যরা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশের এ ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে ফিকির অবদান অনেক এবং উন্নত দেশের লক্ষ্য অর্জনে ফিকির ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি অটল থাকবে।
ফিকির সহসভাপতি দীপল আবেউইক্রমা বলেন, বিশ্বের ৩৫টি দেশ থেকে ২১টি ব্যবসায়িক খাতে এফডিআই অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে নিত্যনতুন সমস্যার সমাধান, উদ্ভাবনী ক্ষমতার বিকাশ এবং নতুন অংশীদারত্ব তৈরি করার সুযোগ সৃষ্টি করবে। আমাদের এ উদযাপনের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা এবং নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য সুযোগ প্রদান করা।
অনুষ্ঠানে ‘গ্রিন ভ্যালু চেইন’ শীর্ষক একটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশনের প্রধান অতিথি ছিলেন স্মার্ট বাংলাদেশ নেটওয়ার্কের সহসভাপতি এবং সাবেক মুখ্য সচিব ও মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) মো. আবুল কালাম আজাদ। সেমিনারে কৃষি জমির ক্ষতি, পানীয় জলের অভাব এবং ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন জলবায়ু ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে অধ্যাপক ইমরান রহমান বলেন, প্রতিকূল জলবায়ু পরিস্থিতিজনিত অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিনিয়োগ প্রয়োজন। এ ছাড়া, এ পরিস্থিতি সামলে উঠতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকতে হবে। তিনি তার বক্তব্যে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বহিরাগত অর্থায়ন ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগের ওপর জোর দেন এবং কার্বন কর আরোপ করার পরামর্শ দেন।
সেমিনারটিতে দেশে সামগ্রিক পণ্য ও পরিষেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসায়িক ক্রিয়াকলাপ খাতে পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতি জোর আরোপ করা হয়। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে পরিবেশবান্ধব ও ব্যবসাবান্ধব করাই ছিল এ অধিবেশনের আলোচ্য বিষয়।
ব্যারিস্টার নিহাদ কবির বলেন, একটি পণ্য বাজারজাত ও বিক্রি করার পর এর ব্যবহার নিয়ে আমরা সজাগ থাকি না, যা কিছু কিছু পরিবেশ দূষণকারী বর্জ্যে পরিণত হয়। গুণগত মান রক্ষা করে পণ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
