রাজধানীতে যুবদলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর ফকিরাপুল কালভার্ট রোড এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন মুগদা যুবদল নেতা মো. বাবুল মিয়া (৪০) এবং মো. মাসুদ শেখ (৪৫)।
আজ বুধবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। র্যাব জানায়, কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকার চুক্তি ও বড় পদের প্রলোভনে বিস্ফোরক দ্রব্য মজুদ করেন তারা। বিস্ফোরক দ্রব্য দিয়ে ককটেলসহ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বোমা তৈরি করে বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক, জানমালের ক্ষতি সাধন এবং প্রাণনাশের কারণ সৃষ্টি করে আসছে। তাদের কাছ থেকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ৬ কেজি ১০০ গ্রাম বিস্ফোরক পাউডার, ১৫৭ বোতল ফেনসিডিল, ১টি ডিজিটাল পালা, ১০টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ২২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৩-এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাবুল মিয়া মুগদা থানাধীন ৭২ নং ওয়ার্ডের যুবদল নেতা। তিনি মুগদা থানার যুবদলের পদ প্রত্যাশী। দলের উচ্চ পর্যায় থেকে তাকে নাশকতামূলক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করলে উচ্চপদ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মুগদা থানার যুবদল নেতা জসীমউদ্দিন বাবু ও মো. আল মামুন পান্নার সহযোগিতায় উচ্চ বিস্ফোরণ ক্ষমতা সম্পন্ন বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক পাউডার সংগ্রহ করে নিজের কাছে মজুদ রাখে।
র্যাব জানায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরে বড় ধরনের নাশকতা সৃষ্টির জন্যই এই উচ্চ ক্ষমতার বিস্ফোরক সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। এরআগে ২০১৮ সালে সংঘটিত নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করার সময় তাকে হাতে নাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
র্যাব-৩-এর অধিনায়ক বলেন, গ্রেপ্তার বাবুল মিয়া মুগদা এলাকায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করার পর পালিয়ে গিয়ে ফকিরাপুলের কালভার্ট রোডে মাসুদের বাসায় আত্মগোপন করে। মাসুদ, বাবুল মিয়াকে অর্থ দিয়ে সহায়তা করে এবং বিস্ফোরক দ্রব্য নিজ বাসায় অতি গোপনীয়ভাবে রাখতে সহায়তা করে। মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ করে আসছেন। এর আগে তিনি মাদকসহ তার নিজ এলাকা খুলনাতে গ্রেপ্তার হন।
পুরান ঢাকায় আদালতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ বলেন, আমরা তদন্ত করছি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। একজন বোরকা পরিহিত নারীর ব্যাগে করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
