আস্থা ছাপা কাগজে, সংবাদ বেশি পড়েন অনলাইনে

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৩, ০৩:২৩ পিএম

আগে একটা পত্রিকার জন্য এক সপ্তাহও অপেক্ষা করত মানুষ। সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলোও চলত বেশ। কিন্তু এখন দৈনিক পত্রিকাও পুরনো মনে হয়। কারণ বিশ্বের আনাচকানাচে পৌঁছে গেছে ইন্টারনেট। অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের জনপ্রিয়তা বাড়ছে, বাড়ছে অনলাইন পত্রিকার সংখ্যাও। মোবাইল ফোনেও পাওয়া যাচ্ছে খবর পড়ার সুবিধা। অনলাইন পত্রিকাগুলোর পাঠক বেড়ে যাচ্ছে হু হু করে। সেখানে থেকেই মুহূর্তেই পড়ে নেওয়া যাচ্ছে টাটকা খবর। তবে আস্থার জায়গাটা এখনও ধরে রেখে ছাপা পত্রিকা।

সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ফ্যাক্টরস এফেক্টিং ট্রাস্ট ইন নিউজ মিডিয়া অ্যামাং ইয়াং পিপল ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের তরুণদের বড় অংশ অনলাইনে সংবাদ দেখেন। সংবাদ বেশি দেখলেও অনলাইনের ওপর তাদের ভরসা কম। তাদের আস্থা বেশি ছাপা কাগজের সংবাদে। চলতি বছরের আগস্টে জরিপভিত্তিক গবেষণাটি রাশিয়ার লমোনসভ মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটির সাময়িকী ‘ওয়ার্ল্ড অব মিডিয়া’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

চলতি বছরের মে মাসে গবেষণাটি চালানো হয়েছে। তিন গবেষকের এ গবেষণায় নেতৃত্ব দেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আটর্স বাংলাদেশের (ইউল্যাব) মিডিয়া স্টাডিজ অব জার্নালিজমের শিক্ষক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষক মালিহা তাবাসসুম এবং দিল্লি ইউনিভার্সটির শিক্ষার্থী আপন দাশ। এ গবেষণার ক্ষেত্রে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এক হাজার দুইশ’ জনের কাছ থেকে মতামত সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়, যাতে বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের প্রতিটি থেকে ১৫০ ব্যক্তির অংশগ্রহণ থাকে। এর মধ্যে ৮৮৭ ব্যক্তি প্রশ্নপত্র পূরণ করেন। কিন্তু কিছু প্রশ্নপত্র অসম্পূর্ণ থাকায় শেষ পর্যন্ত ৪৩০ জনের মতামত গ্রহণ করা হয়। 

জরিপভিত্তিক এই গবেষণায় অংশ নেওয়া উত্তরদাতা ৪৩০ জনের মধ্যে ৫৫ শতাংশ পুরুষ, ৪৫ শতাংশ নারী। আর এর মধ্যে ১৮ থেকে ২৩ বছর বয়সীই বেশি। ৭০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী। আবার নগরবাসীর সংখ্যাও প্রায় ৪০ শতাংশ। 

জরিপে দেখা যায়, তরুণরা জেগে থাকার সময়ের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। আর প্রায় দুই ঘণ্টা ব্যয় করেন ইউটিউব বা টেলিভিশনে নাটক বা সিনেমা দেখে। মাত্র ২৫ মিনিট সময় ব্যয় করেন ছাপা কাগজ পড়ে। আর অনলাইনে সংবাদ দেখার সময় গড়ে ৩২ মিনিট। গড়ে প্রায় ৪৫ মিনিট টেলিভিশন দেখলেও কতটুকু সময় সংবাদ দেখেছেন, তা বলতে পারেননি প্রায় কেউই। ছাপা কাগজ, অনলাইন, টেলিভিশন ও ফেসবুকে আসা নিউজ ফিড থেকেই তরুণেরা প্রধানত সংবাদ পান। এর মধ্যে মাত্র ৯ শতাংশ তরুণের সংবাদ পাওয়ার উৎস ছাপা কাগজ। অন্যদিকে অনলাইন থেকে সংবাদ পান ৪৮ শতাংশের বেশি তরুণ। আর ফেসবুকে আসা সংবাদের ওপর ভরসা ৩০ শতাংশের। মুঠোফোনের অ্যাপ ব্যবহার করে প্রায় দুই–তৃতীয়াংশ তরুণ সংবাদ পান। অ্যাপের মাধ্যমে সংবাদ পাওয়া তরুণদের মধ্যে ৪২ শতাংশের বেশির বয়স ১৮ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে। আর তাদের প্রায় ৫০ শতাংশই শিক্ষার্থী।

‘ওয়ার্ল্ড অব মিডিয়া’ সাময়িকীতে প্রকাশিত জরিপভিত্তিক এই গবেষণায় আরও দেখা যায়, অনলাইন থেকে সংবাদ বেশি পড়লেও এখানে পাওয়া সংবাদের ওপর আস্থা সবচেয়ে কম তরুণদের। ৫৭ শতাংশই এখানে আস্থা পান না। অন্য উৎসের চেয়ে ছাপা কাগজের সংবাদ বেশি বিশ্বাস করেন তরুণেরা। প্রায় ৩৮ শতাংশ তরুণ বলেছেন, তাদের ছাপা কাগজে বেশি আস্থা আছে। টেলিভিশনে আস্থার হার প্রায় ২২, রেডিওতে ১৭ আর অনলাইনে সবচেয়ে কম, ১৫ শতাংশ।

ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আটর্স বাংলাদেশের (ইউল্যাব) মিডিয়া স্টাডিজ অব জার্নালিজমের শিক্ষক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, গণমাধ্যম তথ্যের পাশাপাশি আস্থা বিক্রি করে। গণতান্ত্রিক চর্চা সমুন্নত রাখতে হলে আস্থাশীল গণমাধ্যম দরকার। সেই গণমাধ্যমের ওপর পাঠকের আস্থা কেমন তা জানার তাগিদ থেকেই আমাদের এ গবেষণা। আর দেশের একটি বৃহৎ, সম্ভাবনাময় জনগোষ্ঠীর ওপর এ জরিপ করে আমরা আগামীর বাংলাদেশের গণমাধ্যমের কাছে জনচাহিদার চিত্র খোঁজারও চেষ্টা করেছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত