বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) আয়োজিত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, গণদাবি ও জনমত উপেক্ষা করে সরকার আবারও একতরফা নির্বাচনের দিকে এগুচ্ছে। একতরফা তকমা ঘোচাতে বিভিন্ন দল ও ব্যক্তিকে নির্বাচনে অংশ নিতে নানা অপকৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এসব কাজকর্ম যে এক কেন্দ্র থেকে পরিচালিত হচ্ছে- তা গোপন থাকছে না। এ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচন দেশে চলমান রাজনৈতিক সংকট দূর করবে না। বরং দেশ ও দেশের মানুষ নতুন সংকটে পড়বে।
আজ শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় পুরানা পল্টনস্থ মুক্তি ভবনের সামনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম।
এ সময় বক্তব্য রাখেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ঢাকা উত্তরের সভাপতি ডা. সাজেদুল হক রুবেল, ঢাকা দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাফিজুল ইসলাম। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ। সমাবেশে সিপিবি প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহীন রহমান ও পরেশ কর সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পার্টি কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।
সভাপতির বক্তব্যে শাহ আলম বলেন, রাষ্ট্র এবং সরকার একাকার হয়ে গেছে। আমাদের দেশের নব্বই ভাগ মানুষ দলীয় সরকারের অধীনে নিজের ভোট নিজে দিতে পারবে বলে মনে করে না। সরকার দেশকে আজ পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে। ভোটে জিতবে না জেনে সরকার নানা বাহানা তৈরি করছে। মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। তিনি অবিলম্বে প্রহসনের নির্বাচনী তফসিল বাতিল করে নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নতুন তফসিল ঘোষণার দাবী জানান। তিনি বলেন, লুটেরা রাজনীতিবিদ, লুটেরা আমলা, লুটেরা ব্যবসায়ী এদের স্বার্থ আর জনগণের স্বার্থ সাংঘর্ষিক। তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার জন্য জনগণকে আহ্বান জানান।
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, টাকার খেলা-পেশী শক্তি, প্রশাসনিক কারসাজি ও সাম্প্রদায়িকতার প্রভাবমুক্ত ছাড়া নির্বাচনে সমসুযোগ থাকে না। নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক করতে জাতীয় সংসদে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি, ‘না’ ভোট, প্রতিনিধি প্রত্যাহারসহ নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে হবে।
