পাকস্থলীর ক্যানসার প্রাণঘাতী ম্যালিগন্যান্ট টিউমারগুলোর একটি, ক্যানসারে আক্রান্ত হলে পাঁচ বছরের বেঁচে থাকার হার প্রায় ২০ ভাগ।
কারণ
হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমণ : গ্যাস্ট্রিক ক্যানসার হওয়ার ক্ষেত্রে হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি দ্বারা পাকস্থলীর নিচের দিকে ক্যানসার হয়।
খাদ্যাভ্যাস : লবণযুক্ত, ধোঁয়াযুক্ত বা খারাপভাবে সংরক্ষিত, নাইট্রেট, নাইট্রাইট এবং সেকেন্ডারি অ্যামাইন যুক্ত খাবার গ্যাস্ট্রিক ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
অ্যালকোহল সেবন : দীর্ঘসময় অধিক অ্যালকোহল সেবন পেটের আস্তরণকে ইরিটেট করে। ফলে কোষের প্রদাহ ও ক্ষতি হয়। অতিরিক্ত তামাক ব্যবহার : যারা ধূমপান করেন তাদের পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি। এ ছাড়াও ধূমপান H. pylori সংক্রমণের চিকিৎসায় কম কার্যকর।
স্থূলতা : স্থূলতা প্রক্সিমাল গ্যাস্ট্রিকের সঙ্গে যুক্ত, যা পাকস্থলী ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। এ ছাড়া পারিবারিক কারও এই ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা থাকলে অন্যদেরও ঝুঁকি থাকে।
দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস্ট্রাইটিস : দীর্ঘস্থায়ী এট্রোফিক গ্যাস্ট্রাইটিস থাকলেও পাকস্থলী ক্যানসার হতে পারে।
এ রক্তের গ্রুপ : বিভিন্ন রিসার্চে দেখা গেছে, রক্তের গ্রুপ A ক্ষেত্রে H. পাইলোরি সংক্রমণের অনুপাত (OR = 1.42; 95% CI 1.05–1.93) উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। ABO নন ব্লাড গ্রুপের সঙ্গে তুলনা করে, O ব্লাড গ্রুপের ব্যক্তিদের H-এর ঝুঁকি কমে যায়।
পরিবেশগত এবং পেশাগত এক্সপোজার : ধাতু শ্রমিক, খনি শ্রমিক, রাবার শ্রমিক এবং সেই সঙ্গে কাঠ বা অ্যাসবেস্টস নিয়ে কাজ করা মানুষগুলো বেশি ঝুঁকিতে থাকে। খুব উচ্চমাত্রার বিকিরণের সংস্পর্শে থাকলেও পাকস্থলী ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। এই ঝুঁকির কারণগুলোর মধ্যে এক বা একাধিক থাকার মানে এই নয় যে, আপনি পাকস্থলীর ক্যানসারে আক্রান্ত হবেন। ঝুঁকির কারণগুলোর সঙ্গে অনেক লোক কখনই পাকস্থলীর ক্যানসার তৈরি করে না, যেখানে ঝুঁকির কারণগুলো জানা নেই, এমন অন্যরা তা করে। তাই পাকস্থলীর কানসারের কারণগুলো জেনে সচেতন হওয়া এবং ক্যানসার প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।
