চকলেট প্রায় সবার পছন্দের। মনদেলেজের ক্যাডবেরি কিংবা নেসলের কিটক্যাট বিশ্বজুড়ে অগণিত ক্রেতার ভীষণ প্রিয়। কিন্তু মিঠা চকলেট উৎপাদনের নেপথ্যের তেঁতো গল্পটি জানেন কয়জন। গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, চকলেটের কাঁচামাল কোকোয়া চাষীদের প্রতি কোম্পানিগুলোর বৈষম্যমূলক নীতি, নামমাত্র মূল্য পরিশোধের কথা। শিশুদের প্রিয় চকলেটের পেছনে শিশুশ্রমের কথাও উঠে এসেছে এ প্রতিবেদনে।
ভোক্তা ও কোম্পানিগুলোর নৈতিকতা তুলে ধরা ব্রিটিশ অলাভজনক সংস্থা এথিকাল কনজিউমার-এর দেওয়া তথ্যের বরাতে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গার্ডিয়ান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের নামকরা ৮২ টি চকলেট কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১৭ টি উৎপাদন পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত নৈতিকতা মেনে চলে, কোকোয়া চাষীদেরকে ন্যায্য দাম দেয়। গার্ডিয়ানের ভাষ্য, যেহেতু বেশিরভাগ কোম্পানি কোকোয়া চাষীদের ন্যায্য দাম দেয় না সেহেতু এই চাষীরা সস্তা শ্রমে বেশি লাভের আশায় তাদের বাগানে শিশুশ্রমিকদের ব্যবহার করে থাকতে পারে। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের ৬০ শতাংশ কোকোয়া আসে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে, সেখানকার দেশ ঘানার কোকোয়া চাষাবাদক্ষেত্রের প্রতি ১০টির মধ্যে ৬টিতেই শিশুশ্রম দেখা যায়। আইভরি কোস্টে প্রতি ১০টি কোকোয়া বাগানের ৪টির অবস্থাও একই রকম, অর্থাৎ শিশুশ্রম নির্ভর।
চকলেট কোম্পানিগুলোর মধ্যে মার্স, নেসলে, মেনদেলেজের (ক্যাডবেরি ব্র্যান্ডের মালিক) কোকোয়া চাষী পর্যায়ে মূল্য পরিশোধ নীতি মানসম্পন্ন মাত্রার নয় বলে জানিয়েছে এথিকাল কনজিউমার।আরেক নামকরা ব্র্যান্ড ফেরেরো’র কোকোয়া ক্রয় নীতিকেও ‘পওর’ বলে অভিহিত করেছে সংস্থাটি।
গার্ডিয়ান বলছে, যদিও উৎপাদক পর্যায়ের প্রণোদনা হিসেবে এই কোম্পানিগুলোর কিছু টেকসই নীতিমালা আছে যা কেবল কোকোয়া সরবরাহকারীদের একটি অংশের জন্য। অর্থাৎ বাস্তবতা হচ্ছে, অনেক কোকোয়া চাষীই এসব স্কিমের বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
গত বছর চ্যানেল ফোরের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল চকলেট উৎপাদনের নেপথ্যে থাকা রুক্ষ চিত্র। তাতে তুলে ধরা হয়েছিল, আপনার-আমার হাতে প্রিয় ক্যাডবেরি তুলে দিতে যে কোকোয়া চাষ হচ্ছে সেজন্য মাত্র ১০ বছরের এক শিশুকে ধারালো ম্যাশেটি হাতে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।
ইন্টারন্যাশনাল কোকোয়া ইনিশিয়েটিভের কেটি বার্ড বলেন, ‘কোকোয়া উৎপাদনকারী দেশগুলোতে শিশুদের স্কুল থেকে ছাড়িয়ে এনে বাগানে কাজ করতে দিচ্ছেন অভিভাবকরা। এর মূল কারণ কোকোয়া চাষ করে তারা যে টাকা পান তা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়। শ্রমিকের খরচ তাদের পোষাবে না, এজন্যই পরিবারের সব বয়সীদের কাজে লাগান তারা।’
তিনি আরও বলেন, ‘ স্পষ্টতই শিশুদের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে চকলেট কোম্পানিগুলোর দায়িত্ব আছে, সেই সঙ্গে কোকোয়া উৎপাদন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ভূমিকা রাখতে হবে। এমনকি যারা চকলেটের ভোক্তা তাদেরও এই শিশুদের উন্নত জীবন নিশ্চিতের কথা ভাবতে হবে।’
