গার্মেন্ট ব্যবসা অন্য দেশের হাতে তুলে ক্ষমতায় থাকতে চান প্রধানমন্ত্রী: রিজভী

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:১২ পিএম

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘দেশের জনগণ বিশ্বাস করে রেডিমেড গার্মেন্ট ব্যবসা এখন অন্য দেশের হাতে তুলে দিয়ে অবৈধ ক্ষমতায় থাকার গ্যারান্টি চায় অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

আজ বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশের লাখ লাখ শ্রমিক এই রপ্তানি খাত গড়ে তুলেছেন। উদ্যোক্তারা নানান পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে শিল্প গড়ে তুলেছেন। আর এই সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য বাংলাদেশের সমস্ত কলকারখানা, মানুষের পেটে লাথি মারার চিন্তা করছে। বাংলাদেশের বাজারকে হুমকির মধ্যে ফেলছে। সুতরাং আগামী একতরফা নির্বাচন শুধু শেখ হাসিনার ক্ষমতার নবায়ণ নয়, বাংলাদেশকে ধ্বংস করার লাইসেন্স। এই সরকার এভাবে জনগনের পেটে যে লাথি মারছে তা না, তারা পুরো দেশ নিয়ে বাজি ধরছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের নামে তামাশা পুরোদমে চলছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা শুনে ক্ষিপ্ত প্রধানমন্ত্রী, খড়গ হাতে নিয়ে নির্বাচনী মাঠে ‘আদার বনে শিয়াল রাজার মতো’ ছুঠে বেড়াচ্ছেন। তিনিই সব, তাকে ক্ষমতায় থাকতে হবে। সুতরাং যারা সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের কথা বলে তাদের তিনি ব্যক্তিগত দুশমন হিসেবে বিবেচনা করেন। আর সেজন্য বিরোধী দলের অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবির আন্দোলন দমাতে নানা পন্থা অবলম্বন করেছেন যেগুলি নির্মম পৈশাচিক। আন্দোলনরত নেতাকর্মীদেরও গ্রেপ্তারের পর রিমান্ড, জার্মানির ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের’ অত্যাচারের কাহিনীকেও হার মানাবে। দল পরিবর্তনের জন্য কারান্তরীণ গণতন্ত্রকামী রাজনীতিবিদদের চরম অসম্মানজনকভাবে তাদের সম্মতি আদায়ের জন্য জুলুম করা হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে।’

রিজভী বলেন,  ‘শেখ হাসিনা একটা কার্যকর, শক্তিশালী রাষ্ট্র চান না। তার লক্ষ্য দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা। দেশকে নিজের জমিদারি মনে করা শেখ হাসিনার মধ্যে একটা মালিকানালিপ্সা, আধিপত্যবোধ, শঠতা ও বল প্রয়োগের প্রবণতা প্রবল। আর এ কারণেই তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব অন্যের হাতে ক্রমান্বয়ে তুলে দিচ্ছেন।

তিনি বলেন,  ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন , যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিলে আমরাও দিব। এমন পরিস্থিতির মধ্যে লাখ লাখ গরীবের রুটি রুজির একমাত্র কর্মক্ষেত্রে গার্মেন্টস শিল্পের ধ্বংস ডেকে আনছে গণবিচ্ছিন্ন নিশিরাতের সরকার। কারণ দেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৮২ শতাংশ যায় ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোয়। এসব দেশে রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হলে এ শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ কমে দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিবে। মানুষের হাতে ভিক্ষার ঝুলি তুলে দিতে পারবেন শেখ হাসিনা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত