বাংলাদেশে দারিদ্র্য পরিস্থিতি ২০২০-২১ সালে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ছিল কারণ, সে সময় কভিড পরিস্থিতি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করেছিল এবং সাধারণ মানুষের আয় কমে গিয়েছিল। কভিডের পর বিশ্ব অর্থনীতির মন্দার প্রভাবে বাংলাদেশে ২৭ লাখ ৫১ হাজার মানুষ উচ্চ দারিদ্রের শিকার হয়েছে।
গত শুক্রবার সরকারের গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) তিন দিনব্যাপী গবেষণা সম্মেলনের শেষ দিনে ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (আইএফপিআরআই) গবেষক ও বিজ্ঞানী অ্যাঙ্গা প্রদেশা এ তথ্য প্রকাশ করেন। রাজধানীর লেকশোর হোটেলে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা এই বছর আরও বেশি মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
অ্যাঙ্গা প্রদেশা বলেন, কভিড-১৯ ছিল বাংলাদেশে উচ্চতর দারিদ্র্য বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ। কিন্তু ২০২২ সালে বিশ্বে খাদ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারের জীবনযাত্রার খরচ সরাসরি বেড়েছে। ২০২২ সালে আরও ২৭ দশমিক ৫১ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে।
এ গবেষকের মতে, ২০২৩ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা বাংলাদেশকে আরও পিছিয়ে দেবে। তিনি বলেন, অর্থনীতির মন্থরতার কারণে বাংলাদেশে দরিদ্র জনসংখ্যা আরও ৫০ হাজার বাড়তে পারে। বাংলাদেশে হঠাৎ করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যাওয়া অধিকাংশ মানুষ গ্রামীণ এলাকায়।
অ্যাঙ্গা বলেন, কভিড মহামারী ২০২০ সালে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধির প্রবণতাকে উল্টে দিয়েছে। ২০২২ সালে বিশ্ব মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের গতি কমেছে।
চলতি বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও খারাপ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়ে অ্যাঙ্গা বলেন, ২০২৩ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার কারণে পুনরুদ্ধার আরও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
আইএফপিআরআই বিজ্ঞানী বলেন, ২০২২ সালে সব দেশেই অপুষ্টির মাত্রা আরও খারাপ হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৩১ লাখ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। ২০২৩ সালে সংখ্যা বেড়ে ৩৩ লাখ হতে পারে।
তার মতে, বিশ্বের মূল্য বৃদ্ধি জিডিপির চেয়ে ক্ষুধার জন্যও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কভিডের কারণে মানুষের আয়ের ক্ষতি হয়েছে, যেখানে বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান নিত্যপণ্যের দাম সরাসরি খাদ্যের দাম বাড়িয়েছে এবং পরিবারের খাদ্য উৎস কমিয়ে দিয়েছে।
খানার আয় ও ব্যয় জরিপ (এইচআইইএস) ২০২২ সালের তথ্য অনুসারে, জাতীয় পর্যায়ে দেশের দারিদ্র্যের হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। এটি গ্রামাঞ্চলে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ ও শহরাঞ্চলে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ।
এইচআইইএসের তথ্যে জানা গেছে, বাংলাদেশে সামগ্রিক চরম দারিদ্র্যের হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এটি গ্রামাঞ্চলে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ও শহরাঞ্চলে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।
২০২১ সালে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) গবেষণায় দেখা গেছে, এক বছরে বাংলাদেশে ২ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ বা জনসংখ্যার ১৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ দারিদ্র্যের মুখে পড়েছে। ২০২১ সালের মার্চে গ্রাম ও শহরের বিস্ততে বসবাসকারী ৬ হাজারেরও বেশি মানুষের ওপর র্যাপিড রেসপন্স রিসার্চ (আরআরআর) পরিচালিত হয়।
