৩ মাসে বিএনপির ৭৫৬ নেতাকর্মীর সাজা

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:৪৮ পিএম

পাঁচ বছরের বেশি সময় আগে রাজধানীর বংশাল থানায় করা নাশকতার মামলায় বিএনপির মহানগর ও স্থানীয় পর্যায়ের ২৫ নেতাকর্মীকে পৃথক দুই ধারায় তিন বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া নাশকতার অভিযোগে কলাবাগান থানার মামলায় ৪০ জনকে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে পৃথক আরেকটি আদালত। অন্যদিকে, নাশকতার অভিযোগে কোতোয়ালি থানার মামলায় আরও ৮ জনকে দেওয়া হয়েছে দেড় বছর করে কারাদণ্ড। এ নিয়ে গত তিনমাসে পুলিশের ওপর হামলা, নাশকতা, বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন ফৌজদারি অভিযোগের ৪৩ মামলায় ঢাকার বিভিন্ন আদালতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের ৭৫৬ জন নেতাকর্মীর সাজা হলো।

আজ রবিবার (১০ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্টে্রট মোহাম্মদ শেখ সাদীর আদালত বংশাল থানার মামলায় সোহেল, রাজু, হাজী সিরাজ, মামুন, রনি, মঈন, হাজী মো. মাছুম, গলাকাটা আজিম, ওমর ফারুক, রাজিয়া আলম ওরফে রাজিয়া সুলতানা ও আমির হোসেনসহ ২৫ জনকে সংশ্লিষ্ট আইনের একটি ধারায় আড়াই বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি দুই হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও সাত দিনের কারাদণ্ড দেন। সংশ্লিষ্ট আইনের আরেকটি ধারায় একই আসামিদের ছয় মাস করে কারাদণ্ড, দুই হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও সাত দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বংশাল থানার মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আসামিরা বংশাল থানাধীন ১০৩ নং এনসিসি রোডের সামনে মিছিল বের করে। তারা গাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় বংশাল থানার সাব—ইন্সপেক্টর আজাহার হোসেন মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০১৯ সালের ৩০ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। মামলা চলাকালীন আদালত ৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে।

অন্যদিকে ১০ বছর আগে কলাবাবাগান থানায় করা নাশকতার এক মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম আলী হায়দার ৪০ জনকে দেড় বছর করে কারাদণ্ড দেন। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন,  সিরাজুল ইসলাম, শাহ আলম সৈকত, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, নোমান, এলিন, ওয়াসিউল হাসিব অনিক, পলাশ হাওলাদার, আমিরুল বেপারী চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন, আলমগীর হোসেন, রিপন আহাম্মেদ, আশরাফুল ইসলাম, শাহপরান, মাহমুদুল হাসান রুম্মান, কামাল, ফারুক, ফরহাদ, ইসমাইল শেখ, জুযে়ল, শফিকুল ইসলাম, বাচ্চু মিয়া, রবিউল ইসলাম, মোস্তফা, রুবেল, রুবেল হোসেন ওরফে সোহেল, সিদ্দিক, ফয়সাল, শহিদুল, রাসেল, আব্দুল লতিফ, রুবেল, মনির হোসেন, রিয়াজুল হাসান রাসেল, রাজীব হাসান শিবলু, মাহফুজ ওরফে চঞ্চল, জসিম রানা ওরফে জসিম, জুবাযে়র হোসেন, অনুপ চন্দ্র রায় ও রবিউল ইসলাম নয়ন।

রায়ে বলা হয়, দণ্ডবিধির ১৪৩ ধারায় আসামিদের ৪ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১৪৭ ধারায় ১ বছরের সশ্রম করাদণ্ড, ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায় ১০ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১৮৬ ধারায় ২ মাসের সাশ্রম কারাদণ্ড, ২০০ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ২ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ২৬ জনকে খালাস দিয়েছে আদালত।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর কলাবাগানের বীর উত্তম সি আর দত্ত লেন এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা অস্ত্রশস্ত্রসহ বেআইনি সমাবেশ করে গাড়ি ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় কলাবাগান থানায় মামলার পর ২০১৪ সালে ৬৬ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। মামলা চলাকালীন আদালত ছয় জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে।

৮ বছরের বেশি সময় আগে নাশকতার অভিযোগে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় করা মামলায় স্থানীয় বিএনপির আট নেতাকর্মীকে দেড় বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আনোয়ারুল আজিম, হায়দার আলী বাবলা, সুমন হোসেন, শাহিন, আলাউদ্দিন, হীরা, রজ্জব আলী পিন্টু ও সেন্টু। দণ্ডপ্রাপ্তদের ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাস করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে রায়ে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার চার্জশিটভুক্ত ১২ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ের সময় আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা দিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদারত।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১ অক্টোবর বিএনপি-জামায়াতের অবরোধকালীন সময়ে পুরান ঢাকার বাবুবাজারে গাড়ি ভাঙচুর ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করে পুলিশ। তদন্ত শেষে একই বছরের ২০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এ মামলার বিচারে ৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত