ইরানের নৈতিক পুলিশের হেফাজতে নিহত কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনি এবং তার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি সংগঠনকে শাখারভ পুরস্কার দিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট (ইইউ)। তবে আমিনির পরিবার এ সময় উপস্থিত ছিল না। তাদের এই আয়োজনে উপস্থিত হতে বাধা দিয়েছে তেহরান।
এদিন ইইউ আমিনির প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। পুলিশ হেফাজতে তার মৃত্যু ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। ইরানের বাধ্যতামূলক হিজাব আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে নৈতিক পুলিশের হাতে আটক থাকা অবস্থায় ২২ বছর বয়সে মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর পর ‘ওম্যান, লাইফ, ফ্রিডম’ আন্দোলন গড়ে ওঠে। সংগঠনটির কিছু সদস্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রবার্টা মেটসোলা বলেন, এই বছরের পুরস্কার ইরানের সকল সাহসী এবং প্রতিবাদী নারী, পুরুষ ও যুবকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়, যারা ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেও পরিবর্তনের জন্য চাপ অব্যাহত রেখেছেন।
আমিনির পরিবারকে এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন মেটসোলা। আমিনির মা, বাবা এবং ভাইকে গত শুক্রবার ফ্রান্সের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় তেহরান বিমানবন্দরে আটক করা হয়। কর্তৃপক্ষ পরে তাদের পাসপোর্টও বাজেয়াপ্ত করে। খবর ডয়চে ভেলের।
মেটসোলা বলেন, তারা ইরানের সরকার আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার অধীনে রয়েছে। ইরানের জনগণ প্রতিদিন কীসের মুখোমুখি হয় তার আরেকটি উদাহরণ এই ঘটনা।
তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের জন্য লড়াইয়ে ইরানের নারীদের সাহস এবং অদম্যতা বন্ধ হবে না। তাদের কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না এবং তারা এখানে না থাকলেও তাদের উপস্থিতি অনুভূত হবে।
অনুষ্ঠানে আমিনির পরিবারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী সালেহ নিকবখত। পাশাপাশি পুরস্কারটি পেয়েছেন ইরানের নারী অধিকারকর্মী আফসুন নাজাফি এবং মারসেদেহ শাহিনকার।
মানবাধিকার এবং মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষাকারী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সম্মান জানাতে ১৯৮৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন শাখারভ পুরস্কারের ঘোষণা দেয়। এর নামকরণ করা হয়ে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ভিন্নমতাবলম্বী সোভিয়েত আন্দোলনকারী আন্দ্রেই শাখারভের নামে।
