শিশু একাডেমিতে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপিত

‘পাকিস্তানিরা চোখ বেঁধে মাইক্রোবাসে তুলে নেয় আমার বাবাকে’

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৬:৫১ পিএম

আজ ১৪ই ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০২৩ যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে বিকেল ৩ টায় শিশু একাডেমির শহিদ মতিউর রহমান মুক্ত মঞ্চে স্মৃতিচারণ, আলোচনা, দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, এমপি। প্রতিমন্ত্রী আলোচনা অনুষ্ঠানের পূর্বে ৩ দিন ব্যাপী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বইমেলার উদ্বোধন করেন।

শিশু বয়সেই বাবাকে হারানো ও মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর কথা শিশুদের সামনে তুলে ধরেন শহিদ বুদ্ধিজীবী সিরাজুদ্দীনের সন্তান সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক জাহিদ রেজা নূর এবং শহিদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সারের সন্তান শমী কায়সার। 

জাহিদ রেজা নূর বলেন, পঁচিশের কালরাতে পাকিস্তানিরা যে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে সেটাকে শুধু গণহত্যা বলা যায়না সেটা হচ্ছে 'জেনোসাইড'। তারা ধরে ধরে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল। যাতে করে এই জাতি আর কখনো দাঁড়াতে না পারে। ১০ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৩ টায় আল বদরদের সাথে নিয়ে রুমে ঢোকে পাকিস্তানিরা। এরপর চোখ বেঁধে মাইক্রোবাসে তুলে নেয় আমার বাবাকে। এরপর একে একে সব সাংবাদিকদের তুলে নিয়ে যায়। এরপর ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তুলে নিয়ে যায়। 

শহিদ বুদ্ধিজীবী শহিদুল্লাহ কায়সারের সন্তান, বিশিষ্ট অভিনেত্রী শমী কায়সার বলেন,  ২০২৩ এর বুদ্ধিজীবী দিবসের তাৎপর্য একরকম আজ থেকে ২০-৩০ বছর আগের দিবসের তাৎপর্য অন্যরকম। তখন বুদ্ধিজীবি দিবস বলতে ছিল শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা। আমরা কখনো কল্পনাও করিনি এদেশে বুদ্ধিজীবীদের বিচার হবে। বাংলাদেশের মাটিতে আজ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। গোলাম আজম, কাদের মোল্লা, সাকা চৌধুরীর ফাঁসি হয়েছে। আর এই অসম্ভব সম্ভব হয়েছে কারণ একজন জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা আছেন। আজকের শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসের তাৎপর্য অন্যরকম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, বিজয়ের ২দিন আগে পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানি হানাদার, স্বাধীনতা বিরোধী ও  তাদের দোসররা বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করতে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।

প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা বলেন, বিজয়ের মাসে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বজ্র শপথ নিতে হবে। যেকোনও মূল্যে রুখে দিতে হবে দেশবিরোধী অপতৎপরতাকারী     ও তাদের বিষ দাঁত ভেঙ্গে দিতে হবে। বুদ্ধিজীবিসহ গণহত্যার ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন,স্বাধীনতা বিরোধীরা বাঙালিদের দাবিয়ে রাখতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে  দেশ স্বাধীন হয়েছে। আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আনজীর লিটন। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৭১ এর ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর যে ভাষণ, সেই ভাষণের মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ১৬ ডিসেম্বর আগে ১৪ ডিসেম্বর এক মর্মান্তিক ইতিহাস রচিত হয়েছিল। পাকিস্তানের দোসর আলশামস, আল বদর, রাজাকারদের কারণে। আজকের যারা নতুন প্রজন্ম, শিশু প্রজন্ম যারা আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলবে তাদের সত্যিকারের ইতিহাস জানতে হবে। জানতে হবে সেই সূর্য সন্তানদের  ইতিহাস। গভীরভাবে অনুভব করতে হবে। 

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে ১৪ ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবী উপলক্ষ্যে স্মৃতিচারণ, আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠানে  বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান লাকী ইনামের সভাপতিত্বে বিশেষ  অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমা মোবারেক। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, হানাদার বাহিনী দেশকে মেধা শুণ্য করতে তালিকা করে দেশের সুর্য সন্তানদের হত্যা করে। যার ফলে জাতি তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারায়।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিবুজ্জামান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. কেয়া খান,  জাতীয় মহিলা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবেদা আক্তার ও দপ্তর সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত