ক্রিকেটের আধুনিকায়ন ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ক্রিকেট সরঞ্জামের চাহিদা। পুরো বিশ্বের ক্রিকেট সরঞ্জামের নিয়ন্ত্রণ গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের হাতে। যেমন এসজি, এসএফ বা এসএস এর মতো প্রতিষ্ঠানের সাথে পাকিস্তানী প্রতিষ্ঠান সিএ পুরো বিশ্বের ক্রিকেট সরঞ্জামের বিশাল বাজারের নিয়ন্ত্রক। এছাড়াও কুকাবুরা বা নিউ ব্যালেন্স এর মতো প্রতিষ্ঠানের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে সময়ের সাথে সাথে।
বাংলাদেশের প্রথম সারির ক্রিকেটাররাও এসব প্রতিষ্ঠানের সরঞ্জাম ব্যবহারে অভ্যস্ত। বিশেষ করে বাংলাদেশে ক্রিকেট ব্যাটের চাহিদা ভিন্নমাত্রায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের বেশিরভাগেরই স্পন্সর ভারতকেন্দ্রীক ক্রীড়া সামগ্রী প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশেষ করে এসজি, এসএফ বা এসএস এর মতো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশি প্রথম সারির ক্রিকেটারদের পছন্দের শীর্ষে। স্থানীয় ক্রিকেটারদের কাছেও এসব ব্রান্ডের বিভিন্ন দামের ব্যাটের চাহিদা ব্যাপক।
সে চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এবার দেশি ব্রান্ডের ব্যাট তৈরির নতুন এক উদ্যোগ নিয়েছেন জাতীয় দলের দুই ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস ও মেহেদি মিরাজ। রাজশাহীর ব্যাটের ডাক্তার খ্যাত আফতাব শাহীনের মেধা ও পরিকল্পনাকে কাজে লাগিয়ে প্রায় বছর দুই আগে তারা এ উদ্যোগ নেন। যার প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি মিলেছে চলতি সপ্তাহে। আইসিসি থেকে মেলে ছাড়পত্র। গেল সোমবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল থেকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মেলার পর বিশ্ব দরবারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নামক ক্রিকেট ব্যাটের বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে সকল বাধা দুর হয়।
দেখুন এ নিয়ে দেশ রূপান্তরের বিশেষ ভিডিও
মূলত বছর দুই আগে আফতাব শাহীনের সাথে ইমরুল কায়েস ও মেহেদি মিরাজ মিলে এই পরিকল্পনা করে। তিনজনের নামের প্রথম অক্ষর মিলিয়ে রাখা হয় প্রতিষ্ঠানের নাম এমকেএস স্পের্টস। সে বিষয়ে বিস্তারিত জানান শাহীন। তিনি জানান, ‘বাংলাদেশি একটি ক্রীড়া সামগ্রী প্রতিষ্ঠান তৈরি তার স্বপ্ন। সে ধারণা থেকেই ইমরুল কায়েস ও মেহেদি মিরাজ তাকে ব্যাটের কারখানা তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করে। প্রথম দিকে বড় প্রতিবন্ধকতা ছিলো কাঁচামাল সংগ্রহ। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে কাঠ চাইলেও, তা প্রত্যাখাত হয়। উইলো পেতে সামনে আসে নানান বাধা। অবশেষে একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের চাহিদা থেকেও কম কাঠ পাঠাতে সম্মত হয়। ব্যাট তৈরির ক্ষেত্রে আইসিসির সকল মানদণ্ড রক্ষা করেছে এমকেএস স্পের্টস। এরপর আইসিসির কাছে পাঠানোর পর তারা সবকিছু বিবেচনা করেই ছাড়পত্র দিয়ে দেয়।’
আইসিসির ছাড়পত্র মেলায় এখন আর আন্তর্জাতিক বাজারে এই ব্যাটের বাজারজাতকরণে কোনো বাধা থাকলো না। সেই সাথে বিশ্ব ক্রিকেটের বড় সব তারকাদের স্পন্সর করার ক্ষেত্রেও আইসিসির বাধা উঠে গেলো। ফলে এখন তারা বিশ্ব ক্রিকেটের যেকোনো তারকা ক্রিকেটারকে স্পন্সর করতে পারবে। সেক্ষেত্রে তাদের প্রধান লক্ষ্য হতে পারে স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ ও আন্তর্জাতিক স্তরে খেলা ক্রিকেটাররা। শুধু ক্রিকেট ব্যাটই নয়। ভবিষ্যতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা ক্রিকেট বল, প্যাড, গ্লাভস, হেলমেটসহ অন্যান্য ক্রিকেট সরঞ্জাম তৈরি করতে চায় এমকেএস স্পোর্টস।
প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম কর্ণধার ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস জানান, ‘স্থানীয় ক্রিকেটারদের হাতে মানসম্মত ব্যাট কম দামে তুলে দেয়াই তাদের লক্ষ্য। সাথে আন্তর্জাতিক বাজারেও একটা অবস্থান তৈরি করতে চাই আমরা।’ রাজশাহীতে এমকেএস স্পোর্টস এর ব্যাটের কারখানা এখন পুরোপুরি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে আছে। দ্রুতই সারা দেশে এর পরিচিতি বাড়াতে কাজ করছে সংশ্লিষ্টরা। দ্রুতই ঢাকায় একটি শোরুম স্থাপনের পরিকল্পনাও আছে তাদের। যেখানে এমকেএস স্পোর্টস এর সব পণ্য পাওয়া যাবে। যেখানে লেখা থাকবে- ‘মেড ইন বাংলাদেশ’।
