স্কুল ছুটিতে নানার বাসায় নেত্রকোণায় বেড়াতে গিয়েছিল ইয়াসিন ও ফাহিম। হরতাল-অবরোধের মধ্যে সন্তানদের নিরাপদের কথা চিন্তা করে মা নাদিরা আক্তার পপি ট্রেন যাত্রা বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই যাত্রাই কাল হল নাদিরার জীবনে।
মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার তেজগাঁওয়ে নেত্রকোণা থেকে ছেড়ে যাওয়া আসা মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুনে পুড়ে নিহত হন পপিসহ তার তিন বছরের ছেলে ইয়াসিন রহমান পিয়াস। এ সময় পপির ছোট ভাই তার বড় ছেলেকে নিয়ে ট্রেন থেকে নেমে যাওয়ায় তারা বেঁচে যান।
নাদিরা আক্তার পপি (৩৫) নেত্রকোণা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের বরুনা গ্রামের মো. ফজলুল হকের মেয়ে। তার স্বামী মিজানুর ঢাকায় ব্যবসা করেন। তিনি পরিবার নিয়ে কারওয়ান বাজার এলাকায় থাকতেন। তার মৃত্যুর খবরের গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। কান্নায় ভেঙে পড়ছেন পপির বাবা-মা ও স্বজনরা।
নাদিরার বাবা ফজলুল হক আক্ষেপ করে বলছিলেন, ‘মেয়ে নিরাপদের জন্যে ট্রেনে কইর্যা গেছে। আর এই ট্রেনেই গিয়েই মারা গেছে। এই ঘটনার বিচার চাই। আপনারা সঠিকভাবে বিচার করবেন।’
পরিবার জানায়, সোমবার রাতে দুই সন্তানকে নিয়ে নাদিরা তার ভাই হাবিবুর রহমানের সঙ্গে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে চড়ে ঢাকার বাসায় ফিরছিলেন। ট্রেনে আগুনের ঘটনার সময় হাবিবুর রহমান ভাগনে ফাহিমকে নিয়ে ট্রেন থেকে নেমে জীবন বাঁচাতে পারলেও ট্রেনে আটক পড়ে আগুনে দগ্ধ হয়ে শিশু সন্তানসহ মারা যান নাদিরা।
নাদিরার দেবর আব্দুল কাদির মিলন বলেন, ‘স্কুল বন্ধের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল নাদিরাসহ তার দুই সন্তান। রাতে ওদেরকে ট্রেনে উঠিয়ে দিয়ে আসি। ঢাকার বাসায় যাচ্ছিল। পরে শুনি ট্রেনে আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। এখনও লাশ আসেনি। জানাজার সময় নির্ধারণ করা হয়নি। সবাইকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
আজ মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে তেজগাঁও স্টেশনে এ ঘটনায় পুড়ে গেছে ট্রেনটির তিনটি বগি। এতে চারজন পুড়ে মারা যান। তার মধ্যে তিনজনই নেত্রকোণার বলে জানা গেছে।
