হেরেও ম্যাচ সেরা হওয়া সৌম্যর অম্ল-মধুর অনুভূতি

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:৩৪ পিএম

সুযোগ পাচ্ছিলেন অনেক, কিন্তু কাজে লাগাতে পারছিলেন না সৌম্য সরকার। একের পর এক ম্যাচে ব্যর্থতার পর অবশেষে জ্বলে উঠলেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চমৎকার এক সেঞ্চুরিতে গড়লেন রেকর্ড। কিন্তু তার কীর্তিময় দিনে বাংলাদেশ যে হেরে গেছে। তাই সেঞ্চুরি করে ভালো লাগলেও দলের হারে হতাশ টপ অর্ডার এই ব্যাটসম্যান।

কোথাও কিছু না করেই নিউ জিল‍্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দলে ডাক পাওয়া সৌম‍্য প্রথম ম‍্যাচে রানের খাতাই খুলতে পারেননি। তাকে দলে নেওয়া নিয়ে আগে থেকেই চলা নানা আলোচনা-সমালোচনা তাতে জোরালো হয় আরও। নেলসনে দ্বিতীয় ম্যাচে জ্বলে ওঠেন তিনি আপন আলোয়। ১৫১ বলে দুই ছক্কা ও ২২ চারে করেন ১৬৯ রানের ইনিংস।

এই ইনিংসে বেশ কিছু অর্জন ধরা দেয় সৌম‍্যর হাতে। ছাড়িয়ে যান ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুরে খেলা তার আগের সেরা অপরাজিত ১২৭ রান। নিউজিল‍্যান্ডের মাটিতে ও নিউজিল‍্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ছিল মাহমুদউল্লাহর। ২০১৫ বিশ্বকাপে হ‍্যামিল্টনে তিনি খেলেছিলেন অপরাজিত ১২৮ রানের দারুণ ইনিংস। সেটাও ছাড়িয়ে যান সৌম‍্য।

নিউজিল‍্যান্ডে বাংলাদেশের চতুর্থ ব‍্যাটসম‍্যান হিসেবে ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করা বাঁহাতি এই ওপেনারের সামনে হাতছানি দিচ্ছিল দারুণ এক রেকর্ড। কিন্তু থেমে যেতে হয় এর আগেই। ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিলেটে লিটনের খেলা ১৭৬ রান এখনও বাংলাদেশের কোনো ব‍্যাটসম‍্যানের সর্বোচ্চ। সম্ভাবনা জাগিয়েও এর কাছাকাছি গিয়েই থামেন সৌম‍্য।

শুধু তাই নয়, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এশিয়ার কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ডও এখন সৌম্যর। ছাড়িয়ে যান তিনি ২০০৯ সালে ভারতীয় কিংবদন্তি শচিন টেন্ডুলকারের করা ১৬৩ রানকে।

সৌম্যর ব্যাট আলো ছড়ালেও বাংলাদেশের আর কেউ নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি। তাতে ২৯১ রানের পুঁজি গড়ে সফরকারীরা। কিন্তু উইল ইয়ং ও হেনরি নিকোলসের দারুণ দুটি ইনিংসে ৭ উইকেটে জয় তুলে নেয় কিউইরা। তবে দুর্দান্ত ইনিংসটি খেলে ম্যাচ সেরা হন সৌম্যই।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নিজের খেলা ও সেঞ্চুরি নিয়ে কথা বলেন সৌম্য। সেখানে তুলে ধরেন তিনি, নিজের অম্ল-মধুর অনুভূতির কথা, 'সেঞ্চুরি করেছি ভালো লাগছে, কিন্তু হেরে যাওয়ায় খারাপ লাগছে বেশি। আমরা যদি জিততাম, তাহলে সেঞ্চুরিটি আরও বেশি স্পেশাল হতো। পাওয়ার প্লেতে যদি তিন উইকেট না হারাতাম আমরা, ফলাফল অন্যরকম হতে পারত। মাঝের সময়টায় আমাদের দুটি জুটি হয়েছিল কিন্তু তিন উইকেট গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হারিয়ে ফেলি। সেটা না হলে, আমরা ভালো একটি সংগ্রহ পেতাম। নেটে আমরা কঠোর অনুশীলন করেছি। দীর্ঘদিন পর আমি দলে ফিরেছি। বাড়তি কিছুই ভাবিনি, কেবল বল দেখে নিজের খেলাটা খেলেছি।'

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত