ঝিমিয়ে পড়া ইন্ডাস্ট্রি যেন আবারও জেগে উঠেছে, পালে লেগেছে নতুন হাওয়া। নতুন আশায় শুরু হওয়া এ বছরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল সিনেমা। নানা বিতর্ক এড়িয়ে সিনেমার জয়গান ছিল সর্বত্র, যা ইন্ডাস্ট্রির জন্য খুবই ইতিবাচক। দীর্ঘ অনেক বছর পর ফের মুখে মুখে ছড়িয়েছে সিনেমার নাম। জমে ওঠা চলচ্চিত্র পাড়া মোড় নিয়েছে নতুন আঙ্গিকে। চলতি বছরে দেশি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে ৫০টি। জরিপ বলছে, গেল কয়েক বছরে মুক্তি পাওয়া সিনেমার চেয়ে সংখ্যা ও মানে এ বছর বেশ মানসম্পন্ন সিনেমা পেয়েছে দর্শক। এর মধ্যে কিছু ছবি নিয়ে আলোচনা ছিল তুঙ্গে। এ বছরের চলচ্চিত্রের আদ্যোপান্ত বিশ্লেষণ করেছেন মাহতাব হোসেন ও ইমরুল নুর
আলোচিত চলচ্চিত্র
বছরের শুরুটা হয়েছিল ‘ব্ল্যাকওয়ার’ সিনেমা মুক্তির মধ্য দিয়ে। সানী সানোয়ার পরিচালিত এই ছবিটি মুক্তি পায় ১৩ জানুয়ারি। আরিফিন শুভ, জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী, সাদিয়া নাবিলা অভিনীত এ সিনেমাটি বেশ ভালো সাড়া পায়, তবে ব্যবসায়িকভাবে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। বছরের শেষ সিনেমা হিসেবে ৮ ডিসেম্বর মুক্তি পায় উজ্জ্বল কুমারের ‘মৃত্যুঞ্জয়ী’। হামিদুর রহমান, ফারজানা ছবি অভিনীত সরকারি অনুদানের এ সিনেমাটি মুখ থ্বুড়ে পড়ে।
তবে বছর জুড়ে মুক্তি পাওয়া আলোচিত সিনেমাগুলোর শীর্ষে রয়েছে ‘প্রিয়তমা’, ‘মুজিব : একটি জাতির রূপকার’, ‘সুড়ঙ্গ’, ‘১৯৭১ : সেইসব দিন’ ও ‘প্রহেলিকা’।
প্রিয়তমা
শাকিব খান অভিনীত ও হিমেল আশরাফ পরিচালিত ‘প্রিয়তমা’ সিনেমাটি বছরের সর্বোচ্চ আলোচিত ও প্রশংসিত সিনেমা। ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ সিনেমার রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড গড়ে এটি। এর বাইরেও লুক ও অভিনয়ে তুমুল প্রশংসা কুড়ান ছবিটির নায়ক। এ ছাড়াও সিনেমাটির ‘ঈশ্বর’ ও ‘প্রিয়তমা’ ছিল বছরের আলোচিত ও সর্বাধিক ভিউ পাওয়া গান।
মুজিব : একটি জাতির রূপকার
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিক সিনেমা দিয়ে আলোচনায় ছিলেন চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ। নায়কোচিত ইমেজ ভেঙে শুভকে জননেতার ভূমিকায় পর্দায় হাজির করেন ভারতের নামি নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল। জাতির ইতিহাসের দলিল হিসেবে ছবিটি সর্বমহলে সাধুবাদ পায়। এ ছাড়াও সিনেমাটির ‘অচিন মাঝি’ গানটি ছড়িয়ে পড়ে দেশব্যাপী, তুমুল প্রশংসিত হয়।
সুড়ঙ্গ
ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া এ সিনেমাটি নিয়ে তুমুল আলোচনা হয়। রায়হান রাফির নির্মাণ মুনশিয়ানায় অভিষেকেই দারুণ পারফরম্যান্স দিয়ে দর্শক মনে জায়গা করে নেন আফরান নিশো। ছবিটির ‘গা ছুঁয়ে বলো’ ও ‘টাকা তুই আমার জান’ গান দুটি সর্বমহলে প্রশংসিত হয়।
১৯৭১ : সেইসব দিন
মুক্তিযুদ্ধের গল্পের আধুনিক নির্মাণ বৈচিত্র্যতায় দর্শকরা লুফে নেন হৃদি হক পরিচালিত এ সিনেমাটি। সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গও সিনেমাটির তুমুল প্রশংসা করেন।
প্রহেলিকা
গল্প, প্লট, নির্মাণ আর অভিনয়গুণে ছবিটি দর্শকমহলে বেশ নন্দিত হয়। এ ছবির মাধ্যমে আট বছর পর বড় পর্দায় ফেরেন মাহফুজ আহমেদ। মাহফুজ-বুবলীর রসায়ন বেশ প্রশংসা কুড়ায়।
এর বাইরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রদর্শিত হয়ে প্রশংসার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্মাননা কুড়িয়েছে যুবরাজ শামীম পরিচালিত ‘আদিম’। আলোচিত না হলেও প্রশংসা কুড়ায় সৈকত নাসির পরিচালিত ‘ক্যাসিনো’। এতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়ক নিরব ও শবনম বুবলী। সাইফ চন্দন পরিচালিত ‘লোকাল’।
ছবিটিও বেশ প্রশংসিত হয়। এতে অভিনয় করেছেন আদর আজাদ ও শবনম বুবলী। প্রশংসার বাইরে নানা কারণে চর্চায় ছিল অনন্ত জলিলের ‘কিল হিম’, দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর ‘সুজন মাঝি’ ইত্যাদি। দেশি সিনেমার বাইরে এ বছর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে বহু বিদেশি সিনেমাও। দীর্ঘ অনেক বছরের প্রথা ভেঙে এ বছর দেশীয় হলে প্রদর্শিত হয়েছে ভারতীয় হিন্দি সিনেমাও। সাফটা চুক্তিতে মুক্তি পাওয়া এ বছর হিন্দি ছবির তালিকায় রয়েছে শাহরুখ খানের ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’, ‘ডানকি’ এবং সালমান খানের ‘কিসি কা ভাই কিসি কা জান’ এবং জিতের ‘মানুষ’ ইত্যাদি।
তবুও এগিয়ে বুবলী
শাকিব-শুভর ইতিহাস, নিশোর সম্ভাবনা
‘এ বছরটা ছিল তরুণ নির্মাতাদের বছর’