এমপি মোরশেদ আলমকে জুতাপেটার চেষ্টা

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:৫৩ পিএম

নোয়াখালী-২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী একাংশ) আসনে পথসভার মঞ্চের সামনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমকে জুতোপেটা চেষ্টাকালে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। 

সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে সেনবাগ উপজেলার কেশারপাড় ইউনিয়নের দমদমা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সভায় উপস্থিত দলীয় কর্মীরা ওই যুবককে ধরে গণপিটুনি দেন। পরে খবর পেয়ে সেনবাগ থানার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। আটক যুবকের নাম মো. আলাউদ্দিন। তিনি কেশারপাড় ইউনিয়নের মধ্য কেশারপাড় গ্রামের মফিজুর রহমানের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পথসভা চলাকালে সভামঞ্চের সামনে থাকা দলীয় নেতাকর্মীদের সরিয়ে পেছনের দিক থেকে এক যুবক জুতা উচিয়ে মঞ্চে বসা সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের দিকে যান এবং মোরশেদ আলমকে আঘাতের চেষ্টা করেন। এসময় দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে ধরে ফেলেন। তারা তাকে পিটুনি দিয়ে আটক করে রাখেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ গিয়ে ওই যুবককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

স্থনীয় সূত্রে জানা গেছে আলাউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে আক্রান্ত। কিছুদিন আগে স্থানীয় মসজিদের ইমামকেও মারধর করেছিলেন তিনি। মানসিক অসুস্থতার কাগজপত্র থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আলাউদ্দিনের চাচাতো ভাই দ্বীন মোহাম্মদ ওরফে দিদার সাংবাদিকদের জানান, তার চাচাতো ভাই আলাউদ্দিন প্রবাসী ছিলেন। তিনি আট-দশ বছর আগে বিদেশে মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তিনি প্রায় সময় লোকজনকে মারধর করেন, গালমন্দ করেন। তার আচারণের কারণে বড় দুই ভাইও বাড়িতে থাকেন না। 

ওই সভামঞ্চে উপস্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম কবির জানান, ‘আমি দাঁড়ানো ছিলাম, এমন সময় হঠাৎ ওই ছেলে জুতা নিক্ষেপের চেষ্টা করে। তখন উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাকে ধরে মঞ্চের পশ্চিম পাশে নিয়ে নিয়ে কিছু মারধর করেন। আমি দ্রুত মঞ্চ থেকে নেমে তাদের সরিয়ে দিয়ে ওই যুবককে রক্ষা করি। পরে জানলাম, ওই ছেলে নাকি মানসিক রোগী।
সেনবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মজিদ জানান, মৌখিক অভিযোগ প্রাপ্তির পর আলাউদ্দিন নামে এক যুবককে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত