সৌদি আরবের চার শহরে হুতিদের হামলা

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের চারটি শহরে হামলা চালিয়েছে। এতে ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন ধরে গেছে। ছয় মাস ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এটি বড় ধরনের সম্প্রসারণের ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।

ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির জনবহুল অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী হুতিরা জানিয়েছে, তারা সৌদি ভূখণ্ডের গভীরে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে তারা দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের একটি সৌদি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায়। পাশাপাশি কাছের আবহা শহরে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির স্থাপনা, ইয়েমেন সীমান্তবর্তী নাজরান এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী জাজানে হামলা চালানো হয়। জাজানে একটি বড় তেল শোধনাগার ও বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। খবর রয়টার্সের। 

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পর এসব স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। আহত ৭৩ জনের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এত বিপুলসংখ্যক মানুষ আহত হওয়ার খবর থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি আরবের ওপর চালানো সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি এটি।

হামলার পর সৌদি শহরগুলোর পরিস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত করে এমন ছবি তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। দেশটির কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম পরিস্থিতির কারণে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে হুতিরা এমন কিছু ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে ঘন ধোঁয়া ও বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে। তাদের দাবি, সোমবার সৌদি সীমান্তের আরও পূর্বাঞ্চলে পৃথক হামলায় এসব সৌদি ট্রাকে আঘাত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার পরে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম জানায়, সৌদি যুদ্ধবিমান ইয়েমেনের রাজধানী সানার পূর্বে জুবাহ জেলায় চারটি বিমান হামলা চালিয়েছে।

আগস্টে এক মাসের আপেক্ষিক শান্তির পর উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও সংঘাত তীব্র হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরের দিকে হামলা চালাচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও। মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলারের ওপরে উঠেছে, যা জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি।

সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হুতিদের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে বিঘ্ন তৈরি করতে পারে। এর ফলে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি ওই অঞ্চলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান যুদ্ধের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।

ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আরব জোটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে সৌদি আরব। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই সংঘাত অনেকটাই শান্ত হয়ে এসেছিল। কিন্তু ইয়েমেনে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়েছে এবং হুতিরা লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে জাহাজ চলাচলে হামলার হুমকি দিচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, গত তিন দিনে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে সংঘর্ষের কারণে ১৮ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন।

 

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত