গত শতাব্দীর তিরিশের দশকে প্রথম মেট্রোরেল চালু করেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। সেই সময় কমিউনিস্ট সরকার প্রখ্যাত শিল্পী ও স্থপতিদের সমন্বয়ে অত্যাধুনিক মেট্রো স্টেশন তৈরি করে, যা শিল্পকর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং মস্কোর মতো বড় শহরগুলোর মেট্রো স্টেশনগুলো বিশাল, সাদা মার্বেল ও স্ফটিক ঝাড়বাতি দিয়ে সজ্জিত।
সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্তালিন সোভিয়েত উচ্চাকাঙ্ক্ষার স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও কালের পরিক্রমায় তাতে বিনামূল্যের ওয়াই-ফাই সংযোগ যুক্ত করেছেন রাশিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এমনকি দেশটির পাতাল ট্রেনেও এই সুবিধা পাওয়া যায়।
রাজধানী মস্কোর যাত্রীরা সাধারণত পরিশীলিত পাঠক হিসেবে বিখ্যাত। বিনামূল্যের ইন্টারনেট সেবা পেয়েও তাদের অনেকে বই পড়ার অভ্যাস ছাড়েনি। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি পুরনো ছবিও যেন সেই সাক্ষ্য দেয়। এতে দেখা যায় স্মার্টফোনের যুগেও মেট্রোযাত্রীরা বই পড়ছেন।
বেশ কয়েকজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, বিনামূল্যের ওয়াই-ফাই চালু হলেও বিজ্ঞাপনের কারণে তা বিরক্তি সৃষ্টি করে। তবে এর মাধ্যমে টেলিভিশন ও সিনেমা দেখা যায়, রয়েছে অনলাইনে বই পড়ার সুযোগ। ভাইরাল ছবিটি ২০২১ সালে হংকংভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নাইন গ্যাগার শেয়ার করেছিল। সেখানে একজন মন্তব্য করেন, ‘মস্কোর মেট্রোরেল সত্যিই দীর্ঘ। ফলে দুই-তিন ঘণ্টার যাত্রায় একটি বই থাকা ভালো।’
আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘কিছু মানুষ আছে যারা সবসময় প্রযুক্তি নিয়ে অভিযোগ করে। সত্যি বলতে প্রযুক্তি বিশ্বকে বদলে দিচ্ছে, হয়তো আপনি তা পছন্দ করছেন না।’ আবার কেউ কেউ বলেছেন, রাশিয়ায় বইয়ের দাম কম এবং তারা মোবাইল ফোনে বই পড়তে পছন্দ করেন।
