নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুরে দ্বিতীয় টেস্টে মুশফিকুর রহিমের অবস্ট্রাক্টিং দ্যা ফিল্ড আউটের প্রেক্ষিতে ম্যাচগড়ার ইঙ্গিত করে একটি সংবাদ প্রচার করেছিল একাত্তর টিভি। ‘মিরপুর টেস্টে স্পট ফিক্সিংয়ের গন্ধ! সন্দেহ সিনিয়র ক্রিকেটারের দিকে!’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি একাত্তর টিভির খেলাযোগের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউবে প্রচার করা হয়। এর প্রেক্ষিতে মুশফিক তার আইনজীবীর মাধ্যমে গত ৯ ডিসেম্বর একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। যেখানে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চারটি বিষয়ের নিষ্পত্তি চাওয়া হয়। লিগ্যাল নোটিশে ওই প্রতিবেদনে মনগড়া, অসত্য, উদ্দেশ্য-প্রণোদিত তথ্য পরিবেশনের কথা উল্লেখ করা হয়।
এই বিষয়ে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করেন মুশফিকের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান। যেখানে তিনি জানিয়েছেন, মনগড়া, অসত্য, উদ্দেশ্য-প্রণোদিত প্রতিবেদন প্রকাশ করায় নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাওয়ায় একাত্তর টিভিকে ক্ষমা করে দিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক ব্যাটার মুশফিকুর রহিম।
মুশফিকের আইনজীবী জানান, ‘একাত্তর টিভি তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে আমাদের কাছে তাদের জবাব ও ব্যাখ্যা দিয়েছে। আমরা নিউজিল্যান্ডে থাকা মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে কথা বলে আজ সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছি। টেলিভিশনটি আমাদের অধিকাংশ দাবি মেনে নিয়েছে। তারা পুরো ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। চ্যানেলটি স্বীকার করে নিয়েছে যে, তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, বিতর্কিত প্রতিবেদনটি যে ভুল এবং তথ্য নির্ভর নয় তা বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে তা সরিয়ে নিয়েছে। একটি ভিডিও প্রতিবেদনের মাধ্যমেও তাদের ভুল স্বীকার করে প্রতিবেদন প্রচার করেছে। একই সঙ্গে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানিয়েছে প্রতিবেদনটির কারণে তারা গভীরভাবে অনুতপ্ত।’
ব্যারিস্টার শিহাব আরও জানান, ‘মুশফিক যেহেতু বিসিবির চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার তাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে আমরা আশা করেছিলাম একটি ইতিবাচক পদক্ষেপের। যদিও এখনও পর্যন্ত সেটি আমরা দেখিনি। এই ধরনের ক্ষেত্রে অভিভাবক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিসিবি ভূমিকা রাখলে একদিকে যেমন সুবিচার নিশ্চিত হয়, অন্যদিকে ভবিষ্যতে এই ধরনের মিথ্যা, মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে সতর্কতা জারি হয়।'
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় এই প্রথম কোনো খেলোয়াড় আইনের আশ্রয় নিলেন। এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সেই ঘটনার মীমাংসা হলো।
