কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ভ্রমণ ভিসায় মধ্যপ্রচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে তিনি ব্যবসায়িক কাজে ১২ অক্টোবর চীনে যান। ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চীনে ছিলেন।
তিনি দুবাইয়ে অবস্থানকালীন ১০ অক্টোবর বিকালে মগনামা ইউনিয়নে দুর্বৃত্তরা স্থানীয় মোহাম্মদ আবু ছৈয়দকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহত আবু ছৈয়দের ছেলে মো. ইমান বাদী হয়ে ২৪ জনের নামসহ ৪/৫জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ঘটনার পরদিন পেকুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। যার মামলা নং-৭। ঘটনার পর পেকুয়া থানা পুলিশ বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। মামলার এজহারে মগনামার সাবেক চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম নাম ছিল না।
গত ২৮ ডিসেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পেকুয়া উপজেলার মগনামা কাটাফাড়ি ব্রীজ এলাকা থেকে পেকুয়া থানা পুলিশ ও র্যাবের যৌথ টিম মগনামার সাবেক চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিমকে আটক করেন। এবং তাকে ওইদিন মগনামার আবু ছৈয়দ হত্যা মামলায় সন্ধিগ্ধ আসামি করে আদালতে পাঠায় পেকুয়া থানা পুলিশ।
নিহত আবু ছৈয়দ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পেকুয়া থানার এসআই ইব্রাহিম পাশা বলেন, পেকুয়া থানায় দায়েরকৃত আবু ছৈয়দ হত্যা মামলায় সন্ধিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শরাফত উল্লাহ ওয়াসিমকে আদালতের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত নাই এমন কেউ থাকলে অবশ্যই মামলার চার্জশিট থেকে নাম বাদ দেওয়া হবে।
মগনামার সাবেক চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিমের ছোট ভাই জুনায়েদ ইশরাক চৌধুরী বাবু বলেন, পাসপোর্ট, ভিসা, বিমানের টিকেট পর্যালোচনায় প্রামাণিত হয় আমার বড় ভাই ওয়াসিম আবু ছৈয়দ হত্যাকাণ্ডের সময় দেশের বাইরে ছিলেন। সেটি প্রশাসনসহ এলাকার সবাই জানে। আমার ভাইকে হয়রানি করার জন্যই হত্যা মামলায় আটক দেখানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমার ভাই ওয়াসিমকে পরিকল্পিতভাবে আবু ছৈয়দ হত্যা মামলায় ফাঁসানোর জন্য হত্যাকাণ্ডের পর থেকে একটি মহল চক্রান্ত করে আসছে। এরই সূত্র ধরে আবু ছৈয়দ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ৯ নম্বর আসামি আনিসকে কিছুদিন পূর্বে চট্টগ্রাম শহরের অক্সিজেন এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের পর নিহত আবু ছৈয়দের কিছু আত্মীয় জোরপূর্বক আনিসকে ওয়াসিমের বিপক্ষে কথা বলিয়ে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। পরে আনিস সেটি পুলিশের কাছে স্বীকারও করে।
জানা যায়, নিহত আবু ছৈয়দ ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসী’ হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানা ও আদালতে অসংখ্য মামলা রয়েছে। এরমধ্যে মগনামার ব্যবসায়ী জয়নাল হত্যা মামলা, কৃষক জাফর হত্যা মামলা, মগনামা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি খাইরুল এনামকে হত্যাচেষ্টা মামলা। মগনামা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আনোরুল আজিম বাবুল চৌধুরীকে হত্যাচেষ্টা মামলাসহ আরও বহু মামলার আসামি তিনি।
