১৩ বছর পর ঘরছাড়া ২ সন্তান ফিরল মায়ের কাছে, নামল আনন্দ অশ্রু

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৪:১৬ এএম

রাখির বয়স তখন ৯ বছর আর তার ছোট ভাই বাবলুর বয়স ৬ বছর। একদিন রাখিকে বকা দিয়েছিল মা। রাগ করে ভাইকে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় সে। তবে এই রাগই যে কাল হবে বুঝতে পারেনি রাখি। রেল স্টেশনে আলাদা হয়ে যায় ভাই-বোন। ট্রেনে করে অজানা গন্তব্যে পাড়ি দেয় তারা। দুই শিশুকে আলাদা ভাবে ট্রেন থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে দুই শিশু অভিভাবকের নাম-ঠিকানা কিছুই বলতে পারেনি। তাদের ঠিকানা হয় অনাথ আশ্রমে। ২০১০ সালের এই ঘটনাটি ভারতের মিরাটের। সে সময় ৯ বছর বয়সী রাখিকে পাঠানো হয় নয়ডার একটি অনাথ আশ্রমে। অন্যদিকে তার ছোট ভাই বাবলু বড় হয়ে ওঠেন লখনউয়ের সরকারি অনাথ আশ্রমে। সময়ের চাকা গড়ায়।

সম্প্রতি শিশু অধিকার কর্মী নরেশ পারস জানিয়েছেন, কয়েক দিন আগে বেঙ্গালুরু থেকে এক যুবকের ফোন পান তিনি। ফোনে ওই যুবক তাকে জানান, ১৩ বছর আগে মায়ের ওপর রাগ করে বাড়ি ছেড়েছিলেন তিনি ও তার বোন। তবে মাঝপথেই একে অপরের থেকে আলাদা হয়ে যান তারা। পরিবারের কাছে ফেরার কাতর আর্জি জানান যুবক।

রাখি ও বাবলু। ছবি: সংগৃহীত

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাখি বর্তমানে গুরুগ্রামে কাজ করেন। যোগাযোগ করা হয় তার সঙ্গে। দুজনের কেউই  বাবা-মায়ের নাম মনে করতে পারছিলেন না। শুধু মায়ের গলায় একটি পোড়া ক্ষতচিহ্ন আছে বলে জানায় রাখি।

বাবলু এখন ১৯ বছর বয়সী যুবক। বেঙ্গালুরুতে কাজ করেন। অন্যদিকে ২২ বছর বয়সী রাখি চাকরি করেন  নয়ডার একটি শপিং মলে। তবে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা মোটেও সহজ ছিল না। শিশু অধিকার কর্মী নরেশ যোগাযোগ করেন আগ্রার মিসিং সেলের কর্মকর্তা অজয় কুমারের সঙ্গে।

খবর আসে, ১৩ বছর আগে জগদীশপুর থানায় রাখি ও বাবলুর নামে নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছিল। সেই ঠিকানা ধরেই তাদের মায়ের খোঁজে যায় পুলিশ। তবে গ্রামে পৌঁছে মায়ের সন্ধান মেলেনি। জানা যায় কয়েক বছর আগে ভাড়া বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

ভিডিওকলে সন্তানদের সঙ্গে কথা বলছেন মা। ছবি: সংগৃহীত

শেষমেশ তার খোঁজ মেলে শাহগঞ্জের নাগলা খুশিতে। রাখি ও বাবলুর ছোটবেলার ছবি দেখানো হয় তাকে। চিনতে পারেন তিনি। হারিয়ে যাওয়া সন্তানদের খোঁজ পেয়ে তার চোখে তখন আনন্দ অশ্রু। তখনই মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন বাবলু ও রাখি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত